ডিজিটাল যুগে এনালগ চুরি, রাতের আধাঁরে চলছে রাস্তা পাকাকরনের কাজ

0
113

শাহিনুর ইসলাম প্রান্ত, লালমনিরহাটঃ   পা দিয়ে পাড়া দিলেই গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে ইট। রাস্তায় ব্যবহৃত সেই ইটের খোয়া চুলার মাটির চেয়েও নরম। এতে শুধু ইট গুঁড়ো হচ্ছে না, এর সঙ্গে ভেঙে চুরমার হচ্ছে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে একটি রাস্তার পাকা করণের কাজ। কাজের সময় এলজিইডির প্রকৌশলীদের অনুপস্থিতি এমনকি ওইসব নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, এলজিইডির লোকজনকে ‘ম্যানেজ’ করেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে ব্যবহার অযোগ্য খোয়া অপসরাণ করতে ইতোমধ্যে দুটি চিঠি দিয়েছে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তর। উপজেলার শ্রীখাতা(সোনামারি) থেকে খোদরপাড়া পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটারের সড়ক নির্মাণে উঠেছে এসব অভিযোগ। সড়কটি পাকা করণে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮০ লাখ টাকা।

এলজিইডি সূত্র মতে, সড়কটি পাকাকরণ কাজের দরপত্র আহবান করা হয় গত বছরের ১৯ নভেম্বর। আর এর কার্যাদেশ দেওয়া হয় ওই বছরের ডিসেম্বরে। কাজটি পায় জেলার আদিতমারীর ঠিকাদার আব্দুল হাকিম। তবে আব্দুল হাকিমের লাইসেন্সে কাজটি কালীগঞ্জের ইটভাটা ব্যবসায়ী আতোয়ার রহমাম ওরফে মাঝি করছেন বলে জানা গেছে। আতোয়ারের কাজ করার বিষয়টি স্বীকার করেছে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, পুরো রাস্তার সাববেজ(নিচের স্তর) শেষ করে শুরু হয়েছে ডাবিøউবিএম(দ্বিতীয় স্তর)। ইতোমধ্যে অর্ধেকের বেশি ডাবিøউবিএম শেষ হয়েছে। তবে পুরো ডাবিøউবিএমের জন্য ব্যবহৃত খোয়া অত্যন্ত নিম্নমানের। সেইসাথে গাড়ি ভর্তি করে সড়কে এনে ফেলতে দেখা গেছে ব্যবহার অযোগ্য ইটের খোয়া, যা স্থানীয়ভাবে রাবিশ হিসেবে পরিচিত। রাতেও রাস্তার কাজ চলছে। গত শনিবার রাতেও গিয়ে দেখা যায় সড়কের মাঝখানে স্তুপ করে ইটের গুড়া মিশ্রিত ব্যবহার অযোগ্য খোয়া রাখা হয়েছে।

স্থানীয় বাসীন্দা পবিত্র রায়, মলিন চন্দ্রসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, শুরু থেকেই দায়সারা ভাবে রাস্তার কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করা হলেও কোনো কাজ হয়নি। উল্টো ‘সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার’ অভিযোগে এলাকাবাসীকে হুমকিও দিয়েছেন আতোয়ার রহমান।

জানাগেছে, ওই সড়কের পাশেই আতোয়ার রহমান মাঝির বিবিএমসি নামের ইটভাটা। মূলত তার ভাটায় থাকা গত মৌসুমের অবিকৃত খোয়া-রাবিশ দিয়েই তিনি সড়ক নির্মাণের কাজ করে যাচ্ছেন। আর ভাটার সাথে রাস্তাটি হওয়ায় এতে তার সুবিধাও হয়েছে বেশ। মাস দেড়েক আগে উপজেলার অপর একটি সড়ক পাকা করণের কাজেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল আতোয়ারের বিরুদ্ধে। সেসময়ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষ নিম্নমানের সামগ্রী অপসারণের জন্য চিঠি দিয়েছিল সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে।

সড়কটির কাজ ঠিকাদার আব্দুল হাকিম নিজে করছেন না দাবি করে বলেন, ‘আমার লাইসেন্স ব্যবহার করে বাস্তবে কাজটি কে করছে তা আমি জানিনা’।

কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের সার্ভেয়ার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে এমন কথা স্বীকার করে আইনুল হক বলেন, ‘ মূল ঠিকাদার আব্দুল হাকিমের লাইসেন্সে কাজটি করছে সাফ ঠিকাদার আতোয়ার মাঝি। পর পর দুটি ঠিঠি দেওয়া হলেও তা কোনো ভাবেই মানছেন না। নিম্নমানের কাজ করে যাচ্ছেন সাফ ঠিকাদার আতিয়ার রহমান মাঝি।

এ বিষয়ে কথা বলতে আতোয়ার রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন,এ সময় ভাটাতে ইট পাওয়া যায় না। তবে ভালো ইটের খোয়া দিয়ে কাজ হচ্ছে। এলাকার কিছু লোক টাকা নেওয়ার জন্য অভিযোগ করছেন।