শ্রীমঙ্গলে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শ্রীশ্রীশারদীয় দুর্গাপূজা

0
171

নকুল দেবনাথ(নান্টু), মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রীশারদীয় দুর্গাপূজা। শুক্রবার ১৯ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এই আয়োজন শেষ হয়। দিনটি ছিল সরকারি ছুটির দিন। ভক্তদের চোখের জলে ভাসিয়ে সপরিবারে দুর্গতিনাশিনী দেবীদুর্গা বাবার বাড়ি থেকে ফিরে গেলেন স্বামীর ঘর কৈলাসে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মানুষের মনের আসুরিক প্রবৃত্তি যেমন- কাম, ক্রোধ, হিংসা, লালসা বিসর্জন দেয়াই মূলত বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য। এ প্রবৃত্তিগুলোকে বিসর্জন দিয়ে একে অন্যের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য। সনাতন বিশ্বাস ও বিশুদ্ধ পঞ্জিকামতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবীদুর্গা এবার মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) আসছেন ঘোটকে চড়ে এবং স্বর্গালোকে বিদায় নেন দোলায় চড়ে।

শুক্রবার সকালে মণ্ডপে মণ্ডপে দশমী পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জন করা হয়। বিষাদের ছায়া ছিল ঢাক-ঢোল, কাঁসর-ঘণ্টাসহ বিভিন্ন বাদ্যে, আলোকিত করা ধূপ আরতি ও দেবীর পূজা-অর্চনায়। বিসর্জনের আগে সকাল থেকে শ্রীমঙ্গলের মন্দিরে মন্দিরে চলে সিঁদুর খেলা আর আনন্দ উৎসব। প্রতিমা বিসর্জনের উদ্দেশে শ্রীমঙ্গলের সার্বজনীন দুর্গাবাড়ি থেকে বিকেলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে বের হয় বর্ণাঢ্য বিজয়া শোভাযাত্রা। শ্রীমঙ্গল উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি স্বপন রায়ের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক চিপ হুইপ ও সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি। আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান রনধীর কুমার দেব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান, শ্রীমঙ্গল থানারর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেএম নজরুল, শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভানুলাল রায়, হিন্দু. বৌদ্ধ. খ্রিস্টান. ঐক্য পরিষদ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি অজয় কুমার দেব, সাধারন সম্পাদক হরিপদ রায়, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক সুশীল শীল, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, শ্রীমঙ্গল পৌর শাখার সভাপতি সনজয় রায় রাজু প্রমুখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিড়িয়া ও অনলাইন সাংবাদিকবৃন্দ। শোভাযাত্রাটি সার্বজনীন দুর্গাবাড়ি থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। ঢাকের শব্দে আর ধূপের গন্ধে মুখরিত হয়ে উঠে শ্রীমঙ্গল শহর এলাকা। বিজয়া শোভাযাত্রা ও প্রতিমা বিসর্জনে অংশ নিতে দুপুর গড়িয়ে যেতেই ভক্তরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ থেকে ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে সমবেত হতে শুরু করেন সার্বজনীন দুর্গাবাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানের পূজামণ্ডপ থেকে আসা প্রতিমা নিয়ে ট্রাকগুলো সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে যায় রাস্তায়। বিভিন্ন বয়সী নারী- পুরুষ নেচে-গেয়ে শোভাযাত্রাকে আরো বর্ণিল করে তোলে। যাত্রাপথে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশ সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখে।

বিপুলসংখ্যক পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব সদস্যরাও মাঠে ছিলেন। সন্ধ্যায় ভক্তরা শান্তিজল গ্রহণ করেন ও মিষ্টিমুখ করেন। প্রথা অনুযায়ী প্রতিমা বিসর্জনের পর সেখান থেকে শান্তিজল নিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবার মৌলভীবাজার জেলায় ৯৯৫ টি ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ১৬৮ টি স্থায়ী ও অস্থায়ী মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়।