নাসার আয়োজিত অ্যাপস চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন পানছড়ি উপজেলার রাহাত নূর তালুকদার

0
308

মিঠুন সাহা,পানছড়ি খাগড়াছড়ি: পার্বত্য জেলা এবার নাসা আয়োজিত অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০১৮ প্রতিযোগিতার জন্য ঢাকার দল ‘টিম গেম চেঞ্জার ও ‘প্ল্যানেট কিট’, চট্টগ্রামের ‘টিম কিউ’ ও ‘টিম মাত্রা’, কুমিল্লার ‘টিম ফোটন’ ও ‘টিম মেটা কোডার্স’, রংপুরের ‘এইচএসটিউ মেট্রোয়েড’ ও সিলেটের ‘টিম অলিক’ নির্বাচিত হয়েছে। এই নির্বাচিত টিমের মধ্যে খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার তালুকদার পাড়া গ্রামের রাহাত নূর তালুকদার সহ চট্টগ্রামের ৪ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হয় টিম কিউ।এই টিম কিউ’টি ছিল একটা প্রজেক্ট।এই প্রজেক্টের উদ্দেশ্য ছিল ড্রোন দিয়ে চারা রোপণ করা।যেখানে মানুষ পৌঁছাতে পারে না এমন দুর্গম অঞ্চলে গিয়ে ড্রোনের মাধ্যমে বীজ রোপণ করা।

এই প্রজেক্ট সম্পর্কে রাহাত নূর তালুকদার মুঠোফোনে জানায়ঃ-আমাদের দলের নাম টিম কিউ(Queue)। আমরা টিম মেম্বার ছিলাম ৪ জন(আমি,রিয়াদ,মেগনোলিয়া,উর্মিলা)।আমরা সবাই প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি।আমাদের বিষয় ছিল Artify the earth Category. আমাদের প্রোজেক্ট ছিল ড্রোনট্রি প্লান্টেশন(ড্রোন দিয়ে চারা রোপণ)। আমাদের ড্রোনটি দূর্গম অঞ্চলে যেখানে মানুষের পক্ষে দুঃসাধ্য সেধরনের দুর্গম অঞ্চলে গিয়েও বীজ বপণ করতে পারে।আমাদের ড্রোনটি প্রথমে কোন একটি জায়গায় গিয়ে সে জায়গাটা Scanning, করে Mapping করবে,তারপর ওই নির্দিষ্ট জায়গার আদ্রর্তা ও Soil Test করবে,Test এর result যদি positive হয় তাহলে বীজ ছিটিয়ে দিয়ে আসবে।আমরা আমাদের চেষ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়। আশ্চর্যভাবে আমাদের ভার্সিটির অন্য আরেকটি দল রার্নাস আপ হয়।আমাদের প্রোজেক্টটি এখন আন্তর্জাতিক ভাবে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে।

চতুর্থবারের মতো আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় নয়টি শহরের তরুণরা। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা থেকে জমা পড়ে দুই হাজারেরও বেশি প্রকল্প। সেখান থেকে শীর্ষ ৪০টি প্রকল্প নিয়ে ১৯-২০ অক্টোবর টানা দুই দিনব্যাপী হ্যাকাথন অনুষ্ঠিত হয়েছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি  অব বাংলাদেশে (আইইউবি)। টানা ৩৬ ঘণ্টার হ্যাকাথন আয়োজন শেষে শনিবার রাতে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর।এরপর উপস্থিত মন্ত্রীমহোদয় বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট এবং সার্টিফিকেট তুলে দেন। নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতাটি সম্পর্কে বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেনঃ- “টেকনোলজিস্ট, বৈজ্ঞানিক, ডিজাইনার, আর্টিস্ট, এডুকেটর, উদ্যোক্তা ইত্যাদিসহ সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে ইনোভেটিভ সমাধান খুঁজে বের করাই হল এই প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য।

২০১৯ সালের ১৯ জানুয়ারি সেরা ৮টি প্রকল্প আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে।”যুক্তরাষ্ট্রের কোনো একটি অঙ্গরাজ্যে এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত আসরে লড়বে বাংলাদেশের তরুণদের আটটি দল।তাদের মধ্যে অংশগ্রহণ করবে টিম কিউ। খাগড়াছড়ি পানছড়ির মতো দুর্গম অঞ্চল থেকে গিয়ে চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে গবেষণায় লিপ্ত থেকে আজ এতটুকু আসা। এবং যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা নাসা মতো একটি সংস্থার সাথে কাজ করার সুযোগ পাওয়া  এটা যেমন একদিকে পরিশ্রমের ফসল তেমনি কিছুটা ভাগ্যও বটে।তথা আমাদের খাগড়াছড়ি গর্বও। রাহাত তালুকদার এর মা শাহিনুর বেগম আনন্দে আপ্লুত হয়ে বলেনঃ আমার অনেক স্বপ্ন ছিল আমার ছেলেকে নিয়ে।

একদিন আমার ছেলে অনেক বড় হবে।কাজ দিয়ে সবার মন জয় করবে। আজ আমার ছেলে স্বপ্নের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। গত বছর ২২০টি শহরের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে দুইটি প্রকল্প ‘গ্লোবাল পিপলস চয়েস ফাইনালিস্ট’ সম্মাননায় তৃতীয় ও পঞ্চম  স্থান পেয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যারোনটিক অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্র্রেশন-নাসা আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বের ২৫০টি শহরে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে। মহাকাশ বিষয়ের বাইরে জলবায়ু,আগ্নেয়গিরি, মঙ্গলগ্রহসহ ছয়টি ক্যাটাগরির অধীনে মোট ২০টি সাব-ক্যাটাগরিতে এবার হ্যাকাথন অনুষ্ঠিত হবে।