যশোরে জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান৬২ জাতের মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

0
95

নিউজ ডেস্কঃ  এগ্রিকালচারাল এডভাইজরী সোসাইটি (আস)ও হারভেষ্টপ্লাস বাংলাদেশ এর যৌথ উদ্দোগে জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান৬২ জাতের মাঠ দিবস ২২শে অক্টোবর’২০১৮ রোজ সোমবার বিকালে যশোর জেলার, সদর উপজেলার জগহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে ১৯৫ জন কৃষক/কৃষাণীগণ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ত্ব করেন কৃষিবিদ এসএম খালিদ সাইফুল্লাহ, উপজেলা কৃষি অফিসার, সদর, যশোর। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষিবিদ সুব্রত কুমার চক্রবর্তী, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক, ডিএই, যশোর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কৃষিবিদ এ.বি এম ফজলুর রহমান (অবঃ), উপ-পরিচালক, ডিএই, যশোর, ড. মোঃ হারুন-আর-রশিদ, নির্বাহী পরিচালক, (আস) এবং মোহাম্মদ মোস্তফা, উপ-সহকারি কৃষি অফিসার, জগহাটি ব্লক, সদর, যশোর।অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াতের পর সূচনা বক্তব্য রাখেন এবং ব্রি ধান৬২ চাষের উপর অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন প্রদর্শনী কৃষক মোঃ আব্দুস সবুর এবং এবং শিক্ষনীয় দিক তুলে ধরেন প্রদর্শনী কৃষক মোঃ ইমরান হোসেন। মাঠ দিবস অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সুব্রত কুমার ঘোষ, এরিয়া কো-অর্ডিনেটর (আস)।

অনুষ্ঠানটি সার্বিক সহযোগিতা করেন মোঃ সাইফুল ইসলাম এবং সুব্রত কুমার ঘোষ এরিয়া কো-অর্ডিনেটর (আস)।  অনুষ্ঠানে বক্তরা বলেন, মানব দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধের জন্য জিংক একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে জিংক এর তীব্র অভাব পরিলক্ষিত হয়। বর্তমানে দেশে ৪৫% শিশু এবং ৫৭% অপ্রসুতি ও কুমারী জিংক এর ঘাটতিতে ভূগছেন। বাঙ্গালীর প্রধান খাদ্য হলো ভাত। যা মোট ক্যালরীর চাহিদার প্রায় ৭০% পূরণ করে। কিন্তু ভাত থেকে প্রাপ্ত পুষ্ঠি উপাদানের মধ্যে জিংক এর যথেষ্ঠ ঘাটতি রয়েছে। খাদ্য হিসাবে গ্রহণকৃত ভাতে জিংক এর ঘাটতির বিষয় উপলদ্ধি করে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট(ব্রি) এর গবেষকগণ নিরলসভাবে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।

বাঙ্গালীর প্রধান খাদ্য ভাতের মধ্যে প্রয়োজনীয় পুষ্টিমান নিশ্চিত করতে জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান ৬২, ব্রি ধান ৬৪, ব্রি ধান ৭২, ব্রি ধান ৭৪, ব্রি ধান ৮৪, জাতগুলি উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ  ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ^বিদ্যালয় ২টি জাত এবং পরমাণু কৃষি গবেষনা (বিনা) ১টি জাত উদ্ভাবন করেছেন। জাতীয়  বীজ বোর্ড কর্তক জাতগুলি বাণিজ্যিক ভাবে চাষাবাদের জন্য ২০১৩-২০১৮ সালে অনুমোদন দিয়েছে। অন্যদিকে দেশের সমগ্র জনগোষ্ঠির পুষ্ঠিসমৃদ্ধ খাদ্য নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলছে সরকার । ব্রি ধান৬২ হেক্টর প্রতি ফলন ৪ থেকে ৫ টন।প্রতি কেজি চালের ভিতর ১৯.৬ মি.লি. গ্রাম জিংক আছে এবং প্রোটিন আছে ৯ ভাগ। অনুষ্ঠানে কৃষক/কৃষাণীগণ তাদের মতামত ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।