,,দু টুকরো মাংস,,

0
166

(মেঘালয় একুশ)

হাজারো দিনের সাথে জেগে উঠিলো আজকের দিন,
ভোরের তারকা, নন্দ মাধুলার নীল চাদর ছায়ায় হারিয়ে গেছে অদ্য প্রাতকীর সূর্য্যের আমন্ত্রিতের  দ্বায়,
যে আমন্ত্রিত আজ বয়ে নিয়ে এসেছে কারো জন্য খুশির দিন, আর কারো জন্য খুশির দিনটাকে হাতাশায় দেখার একটা শ্রোতা মঞ্চ হিসেবে,।।
প্রতিবারের মত
বাতাশের নিলাম্ভরিতে নৃত্যের সুরে ঝংকার বেজে আসছে নতুন কাপড়ের গন্ধে,
যে গন্ধের ডাক ছড়িয়ে পরছে বিরাট ভোজন শালার প্রস্তুতি,
আর আমরা,
আমাদের সেই পুরনো অভ্যাসে  শ্রান্ত বধনের লোনায় ধৌত করা চেড়া কাপড় গুলো সেলাই সেরে আবৃত করিলাম না দেখার অংগ গুলো সবার সাথে তাল মিলিয়ে।
মা ঘড়ের সাকালে কারো কাছ থেকে দ্বার করে আনা কিছুটা বাসি মসল্লা নিয়ে বসেছেন,
বাবা গিয়েছেন খরাক হাতে নিয়ে রক্ত চামড়ার সাথে পাখন্ড রণ মনে মাংসকে আলাদা করতে,
যদি কিছুটা হলেও চামড়া চিলে হাতিয়ে আনতে পারেন ক্ষুদার্থের লাঘুব দু টুকরো মাংস।
এদিকেমানুষের যাতায়াতের পথ ধরে আমিও চল্লাম ভিরের মাঝে কারো আচল ধরে,
ঠিকানার উদ্দেশ্য হলো, বিশাল বাড়ি থেকে একটু দুরত্বে উচু গেটের আংগিনার বাহিরে তীর্থের কাকের মত দাড়িয়ে থাকা বাজারের হাটের মত এক চাপাচাপির ময়দান,
যেখানখার গেটটি আজকের জন্য তালাবদ্ধ থাকিবে শুধু আমাদের সাথে দেয়ালকে ধাক্কা ধাক্কির পরিচয় করিয়ে দিতে,।
হাজারো হাহাকারের বুকের ভিরে শূন্য থালা হাতে নিয়ে দাড়ালাম আমিও লাইন ধরে,,।
সূর্য উদয়নের পরের লাল চিহ্নে কিছুটা গরম মাথার উপর আসতে না আসতেই
দেখা যাচ্ছে নানান রংগের পাঞ্জাবী পড়া সুগন্ধি মিশ্রিত সুন্দর মানুষ গুলির আনাগোনায় অফুরন্ত কোলাকোলির মেলা,
যেখানে আমাদেরকে শুধু গ্রীলের লোহার সাথেই জরিয়ে ধরে থাকিয়ে থাকতে হয় বোবা ক্যামরার মত।
মধ্য দুপুর হয়ে এলো,দুটি হাত এখনো পাবার প্রত্যুশে শূন্যই রয়ে গেলো ।
এরি মধ্যে ক্ষুধার্থ নিঃশ্বাসে,হঠাৎ বাড়ির ভেতর থেকে সুস্বাধু রান্নার ঘ্রাণ এলো আফসোসের চাটাই জিবকে বেড় করে দিতে মুখের লালায়,
যে লালায় অনুমান করে দিচ্ছে যে এটা শরীরের কোন অংশের মাংস,।
আমাদের জিবনে এমনো কিছু দেখে পোহাতে হয় বড় হওয়াটা,যা কখনই হাতে নিতে পারি না,
নিতে পারিনা মুখে,না সোদার্ত করতে পারি শূন্য বুকে,।
আমাদের শুধু দেখেই যাওয়া,মুখে দেয়া নয়।
কেননা গরীবের ঘড়ে জন্মের দ্বায় নিরালায় সবিই সহিতে হয়,।
সারাদিনের ক্ষুধা মাটি হবার প্রশ্চাদে বিকেলের পরন্ত ক্লান্তের বেলায় সুর এলো বন্টনের পালা,
শুরু হলো হৈ চৈ এর মেলা। এত মানুষের ভিরে আমি চোট্ট একটি জায়গা,
আন্দাজ করতে পারছি না কোন দিক থেকে আসছে,?
চাটাই ভর্তি বাশের পাত্রে ভরে এলো চোট চোট পলিথিনে ভরা দু টুকরো মাংসের প্যাকেট,
শুরু হলো গেটের লোহার সাথে হাতের খসে যাওয়া চামড়ার লড়াই শুধু দু টুকরো মাংসের জন্য,
কে আগে নেবে,?কে আগে পাবে? প্যাকেটের চাইতে দারিদ্রের সংখ্যা অনেক,
বিত্তবানেরাতো আর বুজতে চায়না আমাদের তৃপ্তির কথা,
জানতেও চায় না আমাদের ইচ্ছে গুলো,
কারণ তখন তাদের ধারনার দৃষ্টি পাতে ঘোরপাক করে শুধু তাদের ফ্রিজ ভরেছে কি না?
দেয়ার চাইতে নেয়ার থালা বেশী হওয়াতে এমতাবস্হায়
শেষে না পোষাতে পেরে পলিথিন থেকে খোলা মাংস গুলোকে আমাদের দিকে কুকুরের দান চিটার মত উড়িয়ে মারে
এক দর্শন ক্রিয়ূল্লাস উধ্যামের মত,তার পর আর কি?
লোভের আশায় ঝাপিয়ে পরে নারী পুরুষ সহ সবাই একে অপরের উপর রাস্তার ভদ্র চাদরে ডাকা ঐ ধাড়ালো পথর বালিতে,
রক্তের খেলাতে,অসহায়ের চামড়া চিলাতে।
দু টুকরো মাংস নিতে গিয়ে শেষে দেখা যায় অনেকের হাত শরীর থেকে কয়েক টুকরো মাংস কেরে নিয়েছে বিত্তবানদের ঐ সমস্ত সেলফি তোলার জায়গা গুলি,
ও রাস্হার ধারালো পাথর বালি,।
হাতের চিলানো রক্ত দেখে তখন ধারনা হয়,যে এটা মনে হয় মাংসের সাথে মিশানো রক্ত,
যা ইতি পূর্বে চাপাচাপির ঢলে বেড়িয়েছে।
টুকরো মাংস পাওয়ার আনন্দে হয়তো তখন চিলে যাওয়া চামড়ার সেই রক্তের ব্যাথাটা নিজেকে এতটা কষ্ট দেয় না,
কিন্তু ব্যাথাটা তখনই অনুভব হয়, যখন বাড়ি ফিরে গিয়ে দেখি আমার দান পাওয়া দু টুকরো মাংসের চেয়ে মায়ের হাতের মসলার ওজনটাই বেশী।