শ্রীমঙ্গলে চিকিৎসকের অবহেলায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভাংচুর

0
571

নকুল দেবনাথ (নান্টু), মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি:  চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগে রাহুল দেব রায় (১৯) নামে এক মেধাবী কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পানিতে ডুবে রাহুল দেব রায় নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শ্রীমঙ্গল সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহত রাহুল দেব রায়, শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাড়াউড়া গ্রামের মধ্যপাড়ার গৌরাঙ্গ দেব রায়ের ছেলে। সে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ থেকে এ বছর এ প্লাস পেয়ে এইচএসসি পাশ করে সিলেট এমসি কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়।

দক্ষিণ ভাড়াউড়া নিবাসী মান্না ভৌমিক  জানান, গত বুধবার ৩১ অক্টোবর দুপুরে রাহুল বাড়ীর পার্শ্ববর্তী হাউজিং স্টেট এলাকার একটি পুকুরে তাঁর আরও ৩জন সহপাঠিকে নিয়ে সাঁতার কাটতে গিয়ে রাহুল পানিতে ডুবে যায়। পরে তা জানাজানি হলে রাহুল’কে স্বজনরা দ্রুত উদ্ধার করেন। সেখান থেকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে আনা হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা.মহসীন ও ডা:সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাহুলের কাকা গৌতম দেব রায়ের অভিযোগ ডাক্তারদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে রাহুলের মৃত্যু হয়েছে। ডাক্তারা সঠিকভাবে না দেখেই হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণা করে দেড় ঘন্টা বাইরে ফেলে রাখে। পরে তাকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক অনেক আগেই মৃত হয়েছে বলে ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভাংচুর চালিয়েছে নিহতের স্বজনরা। একপর্যায়ে তারা হাসপাতালের গ্লাস ভাঙচুর করেন।

এ খবর পেয়ে দ্রুত শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নজরুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেএম নজরুল, শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভানুলাল রায়, গণমাধ্যমকর্মীরা ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য হাসপাতলে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত ডা. নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, দুপুরে রাহুলকে ইর্মাজেন্সিতে নিয়ে আসে। ডিউটিতে থাকা ডা. মহসিন ও ডা. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী দুজনই সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত হন। অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রাহুলকে মৃত ঘোষণা করেন। শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইটও) ডা. জয়নাল আবেদিন টিটু বলেন, এখানে কর্তব্য অবহেলার অভিযোগ তোলার কোনো সুযোগ নেই। ছেলেটি পানিতে ডুবেই মারা যায়। আমাদের হাসপাতালের দু’জন চিকিৎসক ডা. সাজ্জাদ এবং ডা. মহসীন ছেলেটিকে মৃত অবস্থায় পেয়েছেন। তার এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ভাংচুর করলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে মেধাবী শিক্ষার্থী রাহুলের অকাল মৃত্যুর খবর পেয়ে রাতেই দক্ষিণ ভাড়াউড়ায় রাহুলদের বাড়িতে গিয়ে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের শান্তনা জানান ও তাঁর অাত্মার চিরশান্তি কামনা করেন, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ ও সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি। এসময় সাথে ছিলেন, শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের প্রিন্সিপাল আবুল কালাম আজাদ, সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভানুলাল রায়, আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।