পানছড়ির দুর্গম এলাকায় মারমার উদ্যোগে এলাকাবাসীর সেচ্ছাশ্রমে নির্মিত হচ্ছে বিদ্যালয়।

0
101

মনিরুল ইসলাম মাহিম, খাগড়াছড়িঃ খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ির দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় এলাকাবাসীর সেচ্ছাশ্রমে নির্মিত হচ্ছে একটি বিদ্যালয়। পানছড়ি থেকে প্রায় দুই/তিন কিলোমিটার দুরে জৌত খামার এলাকায় উচিমং মারমার উদ্যোগে এলাকাবাসী বিদ্যালয় নির্মানের কাজে সাড়া দেয়। উচিমং জানায়, অত্র এলাকায় কোনো সরকারী/বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই।

এখানকার ছোট ছেলে-মেয়েরা অনেক দুরে দুর্গম পাহাড়ী উছুনিছু পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে যেতেই ছুটি দেয়ার সময় হয়ে যায়। প্রায় ৭/৮শত লোকের বসবাস এ গ্রামে। অথচ এলাকায় বিদ্যালয়ের অভাবে বেশীর ভাগ ছেলে-মেয়েরা পড়ালেখা থেকেই বঞ্চিত হচ্ছে। কোমলমতি শিশুদের লেখাপড়ার কথা বিবেচনা করে একটি বিদ্যালয় নির্মানের বিষয়ে এলাকার হেডম্যান-কার্বারীসহ এলাকার মুরুব্বিদের নিয়ে আলোচনা করি। এলাকাবাসী প্রস্তাবে সাড়া দেয় এবং প্রতষ্ঠানের জন্য এলাকার খেটে খাওয়া দিন মজুর সাংপ্রু মারমা  ৪০ শতক জায়গা দান করেন। সাংপ্রু মারমা বলেন, উচিমং মারমার উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। আমাদের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার জন্য এখানে একটা বিদ্যালয়ের খুবই প্রয়োজন।

এখানে আমরা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক মিলেমিশে বসবাস করি। উচিমং মারমার এমন একটি ভালো উদ্যোগ নেয়ায় আমি সাথে সাথেই প্রতিষ্ঠানের জন্য আমার নিজ নামীয় জায়গা থেকে ৪০ শতক জায়গা দান করি। বর্তমানে এলাকাবাসী পুরুষ/মহিলা সবাই বিনাশ্রমে বিদ্যালয় নির্মানে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিদিন এলাকার ৩০/৪০ জন লোক কাজ করে যাচ্ছে, যাতে দ্রুত বিদ্যালয়ের নির্মান কাজ শেষ হয়। এ ব্যাপারে উচিমং মারমা বলেন, এলাকাবাসীর সহযোগীতায় নির্মান কাজ শেষ হলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলে কিভাবে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করা যায় সেজন্য সহযোগীতা চাইবো। আশা করি এমন একটি কাজে সংশ্লিষ্ট সবাই সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিবেন।