বহসে হেরে যাওয়ায় চাকরি হারালেন লা মাযহাবি শায়েখ

0
11706

স্টাফ রিপোর্টারঃ

লক্ষীপুর জেলার রামগতি থানার আলেকজান্ডারের পৌর মেয়রের কার্যালয়ে আহলে হক তথা উলামায়ে দেওবন্দ ও লা মাযহাবিদের মাঝে বহস অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বহসে লা মাযহাবিরা উলামায়ে দেওবন্দের কাছে পরাজয় বরণ করলে খতীবের পদ থেকে চাকরিচ্যুত হয় রামগতি থানার আলেকজান্ডার এলাকার মসজিদের খতীব এবং আলেকজান্ডার কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল শায়খ মাকসুল হাসান।

লা-মাযহাবীদের মূল উদ্যোক্তা আলেম মাওলানা মাকসুদুল হাসানকে ফিতনা সৃষ্টির অপরাধে খতীবের পদ থেকে অব্যহতির দ্বিতীয়বার ঘোষণা দেন তারই বড় ভাই প্রধান মুনাজির শায়েখ মাহমুদুল হাসান।

উল্লেখ্য, শায়েখ মাকসুদুল অনেক দিন ধরে লা-মাযহাবী তথা ভ্রান্ত মতবাদ প্রচার করছিলেন। তার মতবাদকে হক এবং হানাফী মাযহাব অনুযায়ী আমলকারীদের সুন্নাহ বিরোধী এবং কুরআন ও হাদীস রেখে ব্যক্তি আবু হানীফার মাসআলার অনুসারী বলে বিষোদগার করায় এলাকায় বিশৃংখলা সৃষ্টি হয়।

এ নিয়ে এলাকার আলেম উলামাগণ তাকে একাধিকবার অনুরোধ করেন যেন, তিনি তার এ অপপ্রচার বন্ধ করেন। এমন কি মেয়র সাহেবও একাধিকবার তাকে অনুরোধ করেন, ধর্ম বিষয়ে বিশৃংখলা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকতে।
কিন্তু তিনি তা না মেনে তারটাই ঠিক বলে চ্যালেঞ্জ করে বসেন। ফলে স্থানীয় উলামায়ে কেরাম তার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। মেয়র সাহেবের নেতৃত্বে উভয় পক্ষ একটি কাগজে সাইন করে বাহাসে উপস্থিত হবার ওয়াদা করেন।

কর্তৃপক্ষ উলামায়ে দেওবন্দের মুখপাত্র মুফতী লুৎফর রহমান ফরায়েজির সাথে যোগাযোগ করে বহসের তারিখ ও স্থান নির্ধারণ করেন।

পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী শনিবার রামগতি থানাধীন মেয়রের কার্যালয়ে এ বহস অনুষ্ঠিত হয়। এসময় নির্ধারিত চারটি বিষয়ের কোন একটি বিষয়েও
কোন পরিস্কার বক্তব্য সম্পন্ন সহীহ হাদীস পেশ করতে না পেরে লা মাযহাবিরা চরমভাবে পরাজিত হয় । এছাড়া ইয়াকুব মাদানী নামে একজন লা মাযহাবি শায়েখ বুখারীর ইবারত পড়তে গিয়ে ইবারতে ভুল পড়লে হাসির পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এতে স্থানীয় লা মাযহাবিরা শায়েখদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

লা মাযহাবি শায়েখ খুরশেদ আলম বাহাসের শেষ পর্যায়ে তাদের পরাজয়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আজ কাংখিত দলীল উপস্থাপনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছি। আর হানাফী উলামাগণ যথেষ্ট অভিজ্ঞ এতে আমাদের কারো দ্বিমত নেই।

পরে হানাফী মাযহাবের আমলগুলো কুরআন ও হাদীসের শক্তিশালী দলীলের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ায় ঘোষণা আসে যে, এটিই হবে এ এলাকার আমল। এর বিপরীত আমলের প্রচার প্রসার করা নিষিদ্ধ।

শামীম বিন হারুন নামে এক লা মাযহাবি ব্যবসায়ী বলেন, এতদিন ভেবেছি আমাদের শায়েখরা অনেক বড় আলেম, অনেক জ্ঞানী, কিন্তু এরা যে সবাই ভূয়া তা কল্পনাও করিনাই। এদের কথায় এতদিন হানাফিদের ভুল মনে করতাম, বেদাতী বলতাম। আজ বুঝতে পারলাম তারাই সঠিক পথে আছে।

লা-মাযহাবীদের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন লা-মাযহাবী আলেম ডঃ ইমাম হুসাইনের শ্বশুর এবং জামিয়া কাসিমিয়া নরসিংদীর ভাইস প্রিন্সিপাল, শাইখ মাহমুদুল হাসান আল মাদানী, শাইখ নাজমুল ইসলাম, শাইখ খোরসেদ আলম [মুহাদ্দিস-জামিয়া কাসিমিয়া নরসিংদী], শাইখ মাকসুদুল হাসান, শাইখ ইয়াকুব বিন আবদুস সালাম মাদানী

উলামায়ে হকের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন, আল্লামা আব্দুল মতীন, মুফতী আমজাদ হোসাইন কুমিল্লা, মুফতী লুৎফুর রহমান ফরায়েজী ও মুফতী শামসুল ইসলাম জিলানী।