পথ চলছে দিনরাত,কচ্ছপ গতিতে,বছরের পর বছর,রাস্তার কঙ্করও কাঁদে গড়াগড়ি দিয়ে। ভিডিও দেখুন

0
2994

মানুষের মনের ভেতর কি চলে সেটা বোঝা বড় দায়। কে যে কখন কোন কষ্টে ভুগে, আর আস্তে আস্তে করে নিঃশেষ হতে থাকে তা যে শুধু সৃষ্টিকর্তা ভালো জানেন।

ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে জয় হয়েছে বহু মানবতার। তেমন হাজারো মানবতার জয় হোক সেই প্রত্যাশা সব সময়। আর এমন চাওয়াতেই বা মনের জোরে বহু মানুষ আছেন যারা কিছু করতে পারেন  না তবুও মানবতা তাদের আষ্ঠে পিষ্ঠে জড়িয়ে আছে। আর তাইতো তেমন কিছু দেখলেই তেমন মহৎ হৃদয়ের ব্যক্তিরা তুলের ধরেন বিশ্বের দরবারে। তেমনই একটি হৃদয় বিদারক ঘটনা ফেসবুকের বেশ কয়েকটি পেজে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

একজন বয়োবৃদ্ধ নারী হাইওয়ে রোডে যেখানে সমানে গাড়ি চলেছে তারই পাশ দিয়ে প্রায় বস্ত্রশূণ্য অবস্থায় হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে চলেছে। জানা যায় নি তার গন্তব্যে, বোঝা যাচ্ছে না তার কোনো কথাই। শরীরে জোর যে নেই তা ভিডিও দেখলেই বোঝা যাচ্ছে তবুও এগিয়ে চলেছে। কেনো, কি তার উদ্দেশ্যে কি তার কষ্ট কিছুই বোঝা যাচ্ছে না।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে মহিলাটি পথ চলছে, দিনরাত, কচ্ছপ গতিতে, বছরের পর বছর।

শুধু ভিডিওটি শেয়ার হচ্ছে আর মানবতার প্রশ্ন জেগে উঠছে কেউ কি নেই তাকে সাহায্য করার। রফিকুর রশিদ নামের এক ব্যক্তি তার ফেসবুক আইডিতে ভিডিওটি শেয়ার করেছেন এবং তিনি লিখেছেন ‘মহিলাটির সাথে রাস্তার কঙ্করও কাঁদে গড়াগড়ি দিয়ে।

সামনে সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের হাওয়ায় কোটি টাকা উড়বে। উড়বে জনসেবার প্রতিশ্রুতির ঢেউ। কেউ আছে কী? মহিলাটির দায়িত্ব নিয়ে যিনি শুরু করবেন, নির্বাচনী প্রচারনা! গাড়িতে তুলে দিতে চাইলে উঠে না, খেতে দিলে খায় না, টাকাও নেয় না। চুপেচুপে কী যেনো জপে আর কাঁদে। প্রশ্ন করলে কী উত্তর দিলো বোঝা যায় না। তার বাড়িঘর কোথায়, কেনো তার এ অবস্থা? কেউ তা জানে না। ছবি তুলতে চাইলে বিরক্তিবোধ করে। তবু তুলেছি। তার পক্ষে আবেদন করতে।

মহিলাটির বয়স হয়েছে। এভাবে চলার শক্তি তার কাছে নেই। তবু চলছে মনের জোরে, পেছনের বস্তাটি টেনেটেনে। দেশে ১৮ কোটি মানুষ। বৃদ্ধাশ্রমও আছে অনেক। কেউ হাত বাড়ালে মানবতার জয় হবে।