ছাত্রলীগ নেতা নিজ ঘরেই নাঈমকে জবাই করে হত্যা

0
205

বগুড়ার সারিয়াকান্দি পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অনন্ত শ্রাবণ বিশুর ভাড়া বাড়িতেই ডিপ্লোমা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শেষ বর্ষের ছাত্র নাঈম ইসলামকে (২০) গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। লাশ গুম করতে ঘরের পাকা মেঝেও খোঁড়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কোনও কারণে পরে নাইমের লাশ পাশের একটি মাঠে নিয়ে আগুন দিয়ে ঝলসে দেওয়া হয়।

রবিবার (১৮ নভেম্বর) রাতে পুলিশ ছাত্রলীগ নেতা বিশুর শোবার ঘর থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। বগুড়ার সারিয়াকান্দি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তাপস কুমার পাল এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল-আমিন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, উপজেলার বাড়ইপাড়ার কান্টু মোল্লার ছেলে পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অনন্ত শ্রাবণ বিশু বাজার এলাকায় সন্তোষ খলিফার বাড়িতে ভাড়া থাকত। রবিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। বিশুর শোবার ঘর ও পাশের একটি ঘরের তালা ভেঙে সেখান থেকে নিহত নাইম ইসলামের জুতা, মানিব্যাগ, শিক্ষা আইডি,রক্তমাখা ছুরি, দুটি রামদা, দুটি চাকু, রক্তাক্ত বালিশ, কম্বল, চাদর, ও রক্ত মোছার কাপড় পাওয়া যায়।

ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, তারা নিশ্চিত হয়েছেন, বিশুর ঘরেই নাইমকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ গুম করতে ঘরের পাকা মেঝে খোঁড়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে কোনও কারণে লাশ বাইরে নিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। শনিবার গ্রামের একটি মাঠ থেকে নাইমের অ্যাপাচি মোটরসাইকেল ও রক্তমাথা শার্ট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নাইমের মোবাইল ফোনটি পাওয়া যায়নি। গ্রেফতার ছাত্রলীগ নেতা অনন্ত শ্রাবণ বিশু, তার বন্ধু আতিকুর রহমান, সিহাব বাবু, মনিরুজ্জামান মনির ও অন্তর মিয়াকে রবিবার আদালতে হাজির করে পাঁচ দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। বিচারক এ ব্যাপারে সোমবার শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

উল্লেখ্য, নিহত নাইম গাবতলী উপজেলার মরিয়া গোলাবাড়ি গ্রামের সোনা ব্যবসায়ী ইন্তেজার রহমানের ছেলে। সে বগুড়া শহরে বেসরকারি পলিটেকনিক বিটে ডিপ্লোমা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ বর্ষের ছাত্র ছিল। ১৫ নভেম্বর সকালে ফোন পেয়ে সে বাড়ি থেকে বের হয়। ১৬ নভেম্বর সকালে সারিয়াকান্দি বাজারের পূর্বপাশে তার গলাকাটা ও আগুনে ঝলসানো বিকৃত লাশ পাওয়া যায়। রাতেই নাইমের মা নাজমা বেগম ছয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। এর আগেই পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উল্লিখিত পাঁচ আসামিকে আটক করেছিল।

পুলিশের ধারণা, পূর্ব বিরোধের কারণে ছাত্রলীগ নেতা বিশুর বাড়িতে নাইমকে ডেকে এনে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরিচয় গোপন করতে আগুন দিয়ে লাশ ঝলসে দেওয়া হয়েছিল। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে।