দুই বছরের বেশি সাজা হলে নির্বাচনে অযোগ্য

0
256

দুর্নীতির অভিযোগে বা অন্য কোনো কারণে দুই বছরের বেশি সাজা হলে উচ্চ আদালতে তা স্থগিত বা রায় বাতিল না হলে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি। বিএনপির ৫ নেতা তাদের সাজা স্থগিত চেয়ে আবেদন করলে তা খারিজ করে দিয়ে আদালত এই অভিমত দিয়েছে।
২৭ নভেম্বর, মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
বিএনপির এই পাঁচ নেতা হলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী আমান উলাহ আমান, বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসক নেতা ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি ওয়াদুদ ভূঁইয়া, ঝিনাইদহ-২ এর সাবেক সাংসদ ও ঝিনাইদহ বিএনপির সভাপতি মো. মশিউর রহমান এবং ঝিনাইদহ-১ আসনের সাবেক সাংসদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. আব্দুল ওয়াহাব।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছে, নিম্ন আদালতে কোনো ব্যক্তির দুই বছরের বেশি সাজা হলে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচনে লড়তে পারবেন না। তবে উচ্চ আদালতে রায় বাতিল বা স্থগিত হলে নির্বাচনে অংশ নেওয়া যাবে। সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নির্বাচন করার বিষয়ে বাধা রয়েছে।
সাজা স্থগিতের আবেদন খারিজ করায় বিএনপির এই ৫ নেতা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। একইসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্বাচন করার বিষয়টিও আটকে গেল।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, তথ্য গোপন ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৬ কোটি ৩৬ লাখ ২৯ হাজার ৩৫৪ টাকার সম্পদ অর্জন করায় ওয়াদুদ ভুঁইয়াকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ মোট ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার রায় দেন। তিনি এ বিষয়ে আপিল করে ২০০৯ সালের ২৮ এপ্রিল ২০০৯ সালে জামিন লাভ করেন।
এ ছাড়া জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ৯৩ লাখ ৩৬৯ টাকার সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপন করে মো. আবদুল ওয়াহাবকে যশোর স্পেশাল জজ গত বছরের ৩০ অক্টোবর ৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকার জরিমানা দিয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে আপিল করেন ৬ ডিসেম্বর জামিন নিয়েছেন।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় ১০ কোটি ৫ লাখ ৬৯ হাজার তিনশ টাকার অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগে ২০০৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় কুষ্টিয়ার তৎকালীন সহকারী পরিচালক মোশরাফ হোসেন মৃধা মামলা করেন। এ মামলায় ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর ঝিনাইদহ-২ (সদর ও হরিণাকুন্ডু) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মশিউর রহমানকে পৃথক ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত।
একইসঙ্গে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা ও ১০ কোটি ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৩৩০ টাকার সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পরবর্তীতে তিনি আপিল করে হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন।
২০০৮ সালের ২৫ মে দুর্নীতির মামলায় মোট ১৩ বছরের দণ্ড দেন বিচারিক আদালত। এর বিরুদ্ধে আপিল করে হাইকোর্ট থেকে পরে তিনি জামিন নেন।
আমান উল্লাহ আমানকে দুর্নীতির মামলায় ২০০৭ সালের ২১ জুন বিচারিক আদালত ১৩ বছরের সাজা দেন।