নড়াইলে জিংক সমৃদ্ধ ধানের বীজ বিতরণ

0
73

নিউজ ডেস্কঃ এগ্রিকালচারাল এডভাইজরী সোসাইটি (আস) ও হারভেষ্টপ্লাস বাংলাদেশ এর যৌথ উদ্দোগে২৮ নভেম্বর ২০১৮ রোজ বুধবার বিকালে নড়াইল সদর উপজেলা ধোপলোখা মুন্দির মাঠে জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান৭৪ জাতের বীজ চলতি বোরো মৌসুমে চাষাবাদের জন্য বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। নড়াইল সদর উপজেলা ডিএই এর কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ জাহিদুল ইসলাম বিশ্বাস এর সভাপতিত্বে বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ চিন্ময় রায় উপ পরিচালক ডিএই নড়াইল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কৃষিবিদ মোঃ নজরুল ইসলাম ডিটিও নড়াইল ও কৃষিবিদ মুজিবুর রহমান এআরডিও হারভেষ্টপ্লাস বাংলাদেশ যশোর। অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়নে কাজ করেন সুব্রত কুমার ঘোষ ও মোঃ সাইফুল ইসলাম, এরিয়া কো-অর্ডিনেটর (আস) যশোর। বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানে ধোপাখোলা, মাছিমদিয়া, বীরগ্রাম ও মির্জাপুর গ্রামের ২৫০ জন কৃষক-কৃষাণীর নিকট ব্রি ধান৭৪ জাতের ধান বীজ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন যে, জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান৭৪ জাতটিতে উচ্চমাত্রায় (২৪.২ পিপিএম) জিংক আছে। বোরো মৌসুমে ব্রি ধান৭৪ এর গড় জীবনকাল ১৪৭ দিন, চালের আকার লম্বা, মাঝারী মোটা এবং রং সাদা। হেক্টর প্রতি গড় ফলন ৭.১ টন তবে উপযুক্ত ব্যবস্থাপনায় হেক্টর প্রতি ৮.৩ টন পর্যন্ত ফলন হতে পারে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা জিংকের উপকারীতা সম্পর্কে বলেন যে, মানব দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধের জন্য জিংক একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে জিংক এর তীব্র অভাব পরিলক্ষিত হয়। বর্তমানে দেশে ৪৫% শিশু এবং ৫৭% অপ্রসুতি ও কুমারী জিংক এর ঘাটতিতে ভূগছেন। বাঙ্গালীর প্রধান খাদ্য হলো ভাত। যা মোট ক্যালরীর চাহিদার প্রায় ৭০% পূরণ করে। কিন্তু ভাত থেকে প্রাপ্ত পুষ্ঠি উপাদানের মধ্যে জিংক এর যথেষ্ঠ ঘাটতি রয়েছে। খাদ্য হিসাবে গ্রহণকৃত ভাতে জিংক এর ঘাটতির বিষয় উপলদ্ধি করে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট(ব্রি) এর গবেষকগণ নিরলসভাবে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। বাঙ্গালীর প্রধান খাদ্য ভাতের মধ্যে প্রয়োজনীয় পুষ্টিমান নিশ্চিত করতে জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান ৬২, ব্রি ধান ৬৪, ব্রি ধান ৭২, ব্রি ধান ৭৪, ব্রি ধান ৮৪, জাতগুলি উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ  ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ^বিদ্যালয় ২টি জাত এবং পরমাণু কৃষি গবেষনা (বিনা) ১টি জাত উদ্ভাবন করেছেন।

জাতীয়  বীজ বোর্ড কর্তৃক জাতগুলি বাণিজ্যিক ভাবে চাষাবাদের জন্য ২০১৩-২০১৮ সালে অনুমোদন দিয়েছে। অন্যদিকে দেশের সমগ্র জনগোষ্ঠির পুষ্ঠিসমৃদ্ধ খাদ্য নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলছে সরকার।

সুতরাং জিংকের সমস্যা থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান ৬২, ব্রি ধান ৬৪, ব্রি ধান ৭২, ব্রি ধান ৭৪, ব্রি ধান ৮৪ এর চাষ বাড়ানোর উপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করেন এবং বীজ সংরক্ষন করার পাশাপাশি এর চালের ভাত খাওয়ার পরামর্শ দেন অনুষ্ঠানে বক্তারা।