রাজধানীতে অপহরণকারী চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার

0
72

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অপহরণকারী চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ।
২ ডিসেম্বর, রবিবার দুপুরে কারওরান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলন এ দাবি করেন র্যাবের গনমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডর
মুফতি মাহমুদ খান।

কমান্ডর মুফতি মাহমুদ খান জানায়, এই চক্রটি বাসের নারী যাত্রীদের অপহরণ করে তাদের শারীরিক নির্যাতন করত। এরপর ওই দৃশ্যটি মোবাইল ফোনে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম্যে ছড়িয়ে দেবার হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করত।

চক্রের গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ইমরান (২১), জিহাদ আলী (১৮), শান্ত হোসেন (১৯), রকিবুল হাসান (১৮), রাকিবুল ইসলাম (১৯), নাঈম মিয়া (১৯), জুলহাস (১৮), বাবুল হোসেন (২২) ও হাবিবুর রহমান (২৭)।

মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘রাজধানীতে চলাচল করা মৌমিতা পরিবহন এবং আসমানী পরিবহণে মোদনপুর হতে উত্তরা চলাচলকারী যাত্রীদের টার্গেট করতো চক্রের সদস্যরা। পরে তারা নির্দিষ্ট বাস স্টপেজে তাদের বাসটি দাঁড় না করিয়ে তাদের পছন্দ মতো জায়গায় দাঁড় করাত। সেখান আগে থেকেই অপহরণকারী চক্রের সদস্যেরা যাত্রীর ছদ্মবেশে অবস্থান নিত। বাসটি সেখানে থামার সঙ্গে সঙ্গে তারা বাসে উঠতো। এ সময় সেখানে থাকা আসল যাত্রীরাও তাদের সঙ্গে বাসে উঠে পড়ত। তাদের মুল টার্গেট থাকতো নারী যাত্রীরা।’
গ্রেফতারকৃত অপহরণকারী চক্রের ৯ সদস্য।

‘এরপর ওই বাসের মধ্যেই তারা নারী যাত্রীদের শারীরিক নির্যাতন করে, তা মোবাইলে ধারণ করতো। পরে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেবার হুমকি দিত।’

তিনি আরও জানান, সন্ধ্যার পর থেকেই এই চক্রটি সুযোগ সুবিধা মতো একই পদ্ধতিতে পুরুষ যাত্রীদের বাসে তুলে দরজা বন্ধ করে দিতো। এরপর চক্রের সদস্যরা বাসের মধ্যেই গলায় ছুরি ধরে তাদের কাছে থেকে সব কিছু লুট করে নিত। কিছু না পেলে ওই যাত্রীর ফোন দিয়েই তার পরিবারে সঙ্গে কথা বলে মুক্তিপণ হিসেবে লাখ লাখ টাকা দাবি করতো।’

মুফতি মাহমুদ খান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চক্রটি জানিয়েছে, তাদের গ্রুপে ৩০ থেকে ৩৫ জনের মতো সদস্য আছে। যার নেতৃত্বে আছে গ্রেফতারকৃত ইমরান, জিহাদ, শান্ত। তাদের টার্গেট ছিল মাসে ১০/১২ টা করে অপহরণ করা। প্রত্যেক ভিকটিমের কাছে থেকে মুক্তিপণ হিসেবে তারা ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা আদায় করতো।
র্যাবের এই মুখপাত্র বলেন, ‘এই চক্রটি প্রায় ৫ বছর ধরে এই কাজ করত। এদের মাঝে অনেকেই অনেক মামলায় জেলে ছিলো। তাদের নামে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মামলাও আছে।’
গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে দেশিও অস্ত্র, একটি পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি, মোবাইল, ম্যাগাজিন এবং অপহরণ কাজে ব্যবহৃত মৌমিতা ও আসমানী নামের ওই দুটি বাস জব্দ করা হয় বলেও জানিয়েছে র্যাবের এই কর্মকর্তা।