এনামুরের অবনতি, স্ত্রীর প্রভূত উন্নতি

0
62

‘সাভারে অনেক ক্যাডার আর মাস্তান ছিল। এখন সব পানি হয়ে গেছে। কারও টুঁ শব্দ করার সাহস নেই। পাঁচজনকে ক্রসফায়ারে দিয়েছি আরও ১৪ জনের লিস্ট করেছি। সব ঠাণ্ডা।’, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে এমন বক্তব্য দিয়ে সমালোচনায় এসেছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের প্রার্থী ডা. মো. এনামুর রহমান ।
একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করায় সরকারদল থেকে এনামুর রহমানকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল।
গত পাঁচ বছরে (দশম থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন) সম্পদের দিক থেকে এই এনামুরকে ছাঁড়িয়ে গেছেন তার স্ত্রী।
দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনি হলফনামা বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এনামুরের অবনতি হলেও, তার স্ত্রীর প্রভূত উন্নতি মিলেছে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনি হলফনামা অনুযায়ী, এনামুরের মোট সম্পত্তি (স্থাবর+অস্থাবর) রয়েছে ৭ কোটি ১৯ লাখ ৮২ হাজার ৮৭৫ টাকা। বিপরীতে তার স্ত্রীর মোট সম্পত্তি (স্থাবর+অস্থাবর) রয়েছে ২৩ কোটি ২৪ লাখ ৫৫ হাজার ৭০ টাকা (৮০ ভরি স্বর্ণ ও ৫৭৭.৯ শতক জমির দাম বাদে)। অর্থাৎ এনামুরের থেকে তার স্ত্রীর সম্পদ বেশি রয়েছে ১৬ কোটি ৪ লাখ ৭২ হাজার ১৯৫ টাকা।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনি হলফনামায় অস্থাবর সম্পদের ঘরে এনামুরের স্ত্রীর নামে নগদ টাকা রয়েছে ১৮ কোটি ৮ লাখ ২৯ হাজার ২৪৯ টাকা, বন্ড, ঋণপত্র, স্টক একচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় কোম্পানির শেয়ার রয়েছে ১ কোটি ৩৫ হাজার টাকার, পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ রয়েছে ১ কোটি ৩৭ লাখ ২৪ হাজার ৯১৪ টাকা, গাড়ি রয়েছে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার, ৮০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে, ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে ৬০ হাজার টাকার এবং আসবাবপত্র রয়েছে ৬৫ হাজার টাকার।
স্থাবর সম্পদের হিসেবে এনামুরের স্ত্রীর ৫৭৭ দশমিক ৯ শতক অকৃষি জমি রয়েছে এবং অন্যান্য সম্পদ রয়েছে ২ কোটি ৫৮ লাখ ৯০ হাজার ৯০৭ টাকার।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনি হলফনামার সঙ্গে নতুন এই হলফনামার তুলনা করলে দেখা যায়, পাঁচ বছর আগে অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে এনামুরের স্ত্রীর বন্ড, ঋণপত্র, স্টক একচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় কোম্পানির শেয়ার ছিল না; পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ছিল না; গাড়ি ছিল না। একই সঙ্গে দশমের হলফনামা অনুযায়ী কোনো স্থাবর সম্পত্তি ছিল না এনামুরের স্ত্রীর।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনি হলফনামার চিত্রটি ছিল কিছুটা ভিন্ন। ওই হলফনামা অনুযায়ী, এনামুরের মোট সম্পত্তির পরিমাণ বেশি ছিল তার স্ত্রীর থেকে। সেই সময়ে তার ছিল ৯ কোটি ২৫ লাখ ৯৩ হাজার ১৮৪ টাকার সম্পত্তি (৪০ ভরি স্বর্ণের দাম বাদে) এবং তার স্ত্রীর ছিল ১৭ লাখ ৯০ হাজার টাকার সম্পত্তি (৮০ ভরি স্বর্ণের দাম বাদে)। অর্থাৎ স্ত্রীর থেকে এনামুরের ৯ কোটি আট লাখ ৩ হাজার ১৮৪ টাকার সম্পত্তি বেশি ছিল।
এনামুরের স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তি কমেছে
দুই হলফনামা তুলনা করলে দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে এনামুরের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ কমেছে। হলফনামায় উল্লেখিত অর্থের হিসাবে দশমের তুলনায় একাদশে এনামুরের অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ কমেছে ২ কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার ৩০৯ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তি কমেছে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
এর মধ্যে দশমে তার অস্থাবর সম্পত্তি ছিল ৯ কোটি ২২ লাখ ৬৩ হাজার ১৮৪ টাকার এবং একাদশে কমে হয়েছে ৭ কোটি ১৯ লাখ ৮২ হাজার ৮৭৫ টাকা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনি হলফনামায় স্থাবর সম্পদের বিবরণীর নিজ নামের ঘরগুলোতে ‘প্রযোজ্য নহে’ লেখা ছিল ।
আয়-দায় বেড়েছে
দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনি হলফনামা অনুযায়ী পাঁচ বছরে এনামুরের আয় বেড়েছে ২৩ লাখ ৩০ হাজার ৪৩৫ টাকা। এই উন্নতি হয়েছে পাঁচ বছর পর। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনি হলফনামা অনুযায়ী তার আয় ছিল ৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।
একই সঙ্গে পাঁচ বছরে এনামুরের দায়ও বেড়েছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনি হলফনামা অনুযায়ী তার দায়ের ঘর ফাঁকা থাকলেও একাদশের হলফনামা অনুযায়ী তার দায় হয়েছে ৫৮ কোটি ৩০ লাখ ৭৮ হাজার ৯৭১ টাকা এবং তার স্ত্রীর দায় হয়েছে ১৮ লাখ ৪৮ হাজার ২৪৮ টাকা। দশমে তার স্ত্রীর কোনো দায় ছিল না।
অন্যান্য
দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনি হলফনামার পার্থ্যকে দেখা যায় পাঁচ বছরে এনামুরের ওপর নির্ভরশীলদের নামে স্থাবর সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনি হলফনামায় এনামুর উল্লেখ করেছেন নির্ভরশীলদের নামে অকৃষি জমি রয়েছে আট দশমিক পাঁচ শতক। তবে তিনি এর মূল্য উল্লেখ করেননি। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনি হলফনামায় নির্ভরশীলদের স্থাবর সম্পদের ঘরগুলো ফাঁকা ছিল।
একইসঙ্গে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনি হলফনামা অনুযায়ী এনামুরের নিজের নামে কোনো কৃষি জমি, অকৃষি জমি, দালান, বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট নেই।