মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধেআচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

0
83

বিএনপি প্রশাসনে রদবদলের নামে নির্বাচন কমিশনের কাছে যে দাবি তুলেছে তা মানতে হলে পুরো সরকারকেই ওলটপালট করতে হয়। পুরো সরকারকেই বদল করতে হয়। সেটা তো হয় না। আর বিএনপি তো মেনেই নিয়েছে এই সরকারের অধীনে এই প্রশাসনের অধীনে নির্বাচন করবে। তারা তো এসেছেও। তাহলে প্রশাসন রদবদলের দাবি অবান্তর।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কিছু দাবি-দাওয়া ও প্রস্তাবনা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে রোববার সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে একটি বিমানবন্দরে সমাবেশ করেছেন বলে দাবি করে এইচ টি ইমাম বলেন, এখন তো সমাবেশ করার কথা না। আমরা শুনেছি সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সমাবেশ করেছেন; যা নির্বাচনী আচরণ বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। যেই করুক না কেন, সমাবেশ করলে তা আচরণ বিধির লঙ্ঘন। আমরা চাই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাক। সুষ্ঠু সুন্দর ও স্বচ্ছ নির্বাচন হোক। যেটি গ্রহণযোগ্য হবে।
মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ নির্বাচন কমিশন খতিয়ে দেখবে বলেও দাবি করে তিনি বলেন, অন্য দল কেন, আওয়ামী লীগের কোনো মনোনয়ন প্রার্থী যদি আচরণ বিধি লঙ্ঘন করেন, তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হোক।
বিরোধী একটি দলের প্রধান জেলে। তার মনোনয়নপত্র আজ বাতিল করা হয়েছে। এরপরও কি আপনারা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রয়েছে বলে দাবি করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে এইচ টি ইমাম বলেন, এটা তো নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সুপ্রিমকোর্টের ব্যাপার। এটা আইনের ব্যাপার। দণ্ডিত ব্যক্তির ব্যাপার কোনো দলের প্রধানের বিষয় নয়।
এ সময় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল ফারুক খান বলেন, আমি তো মনে করি, এটাই তো স্পষ্ট করে, দেশে লেভেল প্লেয়িং রয়েছে। কারণ, আইন সবার জন্য এক। কোনো দলের প্রধানের জন্যও নয়।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ‘হাউস অব কমন্স লাইব্রেরি’র তৈরি করা বাংলাদেশ বিষয়ে হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এখনও সংশয় আছে, এখানকার অবস্থা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থেকে এখনো অনেক দূরে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এইচ টি ইমাম বলেন, হাউস অব কমন্স যা বলেছে তা তো তাদের কথা। হাউস অব কমন্স মানে ইংল্যান্ড নয়। তবে পাশাপাশি সমগ্র ইউরোপীয় পার্লামেন্ট কি বলেছেন? তাদের প্রতিনিধি দল ঘুরে গেছে। তারা বলে গেছে, একটি সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচন করার সুন্দর/অবজেক্টিভ পরিবেশ আছে। যে কারণে এখানে পর্যবেক্ষক পাঠানোর প্রয়োজন নেই।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হক চৌধুরী নওফেল বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্লামেন্ট মেম্বার বাংলাদেশ ঘুরে বিশ্লেষণ করেছেন। কিন্তু পরে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ঢাকার অফিস থেকে কি বললেন তা গ্রহণযোগ্য নয়। আর হাউস অব কমন্স কী বলেছে তার সত্যতা নাই। কারণ আমাদের অফিসিয়ালি কেউ কিছু জানায়নি। তাছাড়া এমন কথা কে বলেছেন তা স্পষ্ট নয়।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের বক্তব্য ও দাবি সম্পর্কে এইচ টি ইমাম বলেন, তিনি দিন রাত ঝাড়া মিথ্যা কথা বলেন। বলেই চলেছেন। মওদুদ আহমদ ১০ বছর, ২০ বছর আগে কী বলেছেন তা দেখলে বুঝবেন।
অন্যদের মধ্যে এ সময় প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল ফারুক খান, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হক চৌধুরী নওফেল, সাংসদ ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পি, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ড. মশিউর রহমান, রাশেদুল হক, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, এস এম কামাল হোসেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য রিয়াজুল কবির কাউসার, কেন্দ্রীয় সদস্য মারুফা আক্তার পপি, তানভীর ইমাম, এনামুল হক চৌধুরী, ড. সেলিম মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।