ফতুল্লায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক

0
57

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিসিক শিল্পনগরীতে ফকির নিটওয়্যার নামের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও কারখানা ভাঙচুর করেছেন। ওই সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।
এ ঘটনায় পুলিশসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
৩ ডিসেম্বর, সোমবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ হয়।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারস অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সাবেক সভাপতি ও এম.ভি নিট ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাতেম জানান, উৎপাদন মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে ফকির নিটওয়্যার কারখানার শ্রকিদের মধ্যে গত তিনদিন ধরে শ্রমিক অসন্তোষ চলছিল। মালিকপক্ষ মজুরি বৃদ্ধি করলেও দাবি অনুযায়ী বৃদ্ধি না হওয়ায় শ্রমিকরা রবিবার কারখানাটির অভ্যন্তরে বিক্ষোভ করে।’
‘এ অসন্তোষ নিরসনে কারখানাটির মালিকপক্ষ আজ (সোমবার) সকালে বিসিক কর্তৃপক্ষ, বিকেএমইএ কর্তৃপক্ষ ও শ্রম অধিদফতরের কর্মকর্তাদের নিয়ে আলোচনায় বসেন। তারা আগামীকাল বিভিন্ন কারখানার মালিকদের সাথে আলোচনা করে তাদের সাথে উৎপাদন মজুরি সমন্বয় করার আশ্বাস দিলেও শ্রমিকরা তা মেনে না নিয়ে বিসিকের অভ্যন্তরে বিক্ষোভ শুরু করে।’
পুলিশের ভাষ্য, দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের সময় শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি), ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ও সাত-আট জন পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হন।
ওই সময় পুলিশ উত্তেজিত হয়ে বহিরাগতদের লাঠিচার্জ করে। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের কারণে বিসিক সংলগ্ন নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ সড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহাবুব উন নবী জানান, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য শ্রমিকদের বোঝাতে চেষ্টা করে। তবে শ্রমিকদের মধ্যে বহিরাগত শতাধিক যুবক মিলে গিয়ে পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। তারা বেশ কয়েকটি শিল্প কারখানা ও যানবাহন ভাঙচুর করে। এতে পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে বহিরাগতদের লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, ঘটনার পর বিসিক শিল্প নগরীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে; নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
শিল্প পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, পুলিশের ওপর হামলা, শিল্প প্রতিষ্ঠান ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার বিষয়ে তদন্ত চলছে। তাদেরকে শনাক্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।