সামান্য ভুলে মনোনয়নপত্র বাতিল অতীতে হয়নি: রনি

0
53

পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম মাওলা রনি মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন।

৩ ডিসেম্বর, সোমবার দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এসে রনি মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করেন।

এর আগে ২ ডিসেম্বর, রবিবার গোলাম মাওলা রনির মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা। হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

এ প্রসঙ্গে গোলাম মাওলা রনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে ন্যায়বিচার পাব বলে আশা করছি। আমার মনোনয়নপত্রে সামান্য ভুল ছিল। অতীতে এই ভুলের জন্য কারো মনোনয়ন বাতিল হয়নি। আমি আশা করছি, আমারটাও বাতিল হবে না। নির্বাচন কমিশনে ন্যায়বিচারের মাধ্যমে আমি আমার প্রার্থীতা ফিরে পাব।’

নিজের মনোনয়নপত্রের বর্ণনা দিয়ে রনি বলেন, ‘ভুলটা হলো এই, আমরা যে একটি সাপ্লিম্যান্টারি ডকুমেন্ট জমা দেই, সেটি হলো নোটারির পাবলিক হলফনামা। নির্বাচন কমিশনে হলফনামাতে যে তথ্যগুলো আমরা দেই, সেই তথ্যগুলোই আবার নোটারি পাবলিক করে জমা দিতে হয়। আমরা যেটার দুটো কপি করেছিলাম। একটি কপি গলাচিপাতে জমা পড়েছে, আরেকটি কপি যেটি মূল কপি, সেটিতে ভুলক্রমে আমার স্বাক্ষরটি পড়েনি।’

‘তবে অতীতে নির্বাচন কমিশনে যা ঘটেছে, মনোনয়নপত্রে যাচাই-বাছাইয়ের সময় এ রকম ভুল ধরা পড়লে বলা হয়, এখানে স্বাক্ষর করে দেওয়ার জন্য। এখন আমাকে সেই স্বাক্ষরের সুযোগ না দিয়ে আমাকে সরাসরি বলা হলো, আপনার মনোনয়ন বাতিল। আমি সেটি মেনে নিয়েছি, সেখানে বিধি মোতাবেক সার্টিফাইট কপি নিয়ে এসেছি।’

মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আপিল দাখিল শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাবেক এই নেতা।

দল পরিবর্তন করছেন বলেই কি সামান্য ভুলে বাতিল করা হয়েছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে গোলাম মাওলা রনি বলেন, ‘এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাচ্ছি না এখন। ইসিতে আমি বিচার প্রার্থী। আশা করি ন্যায়বিচার পাব।’

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র অনুযায়ী, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে ২ হাজার ২৭৯ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ও ৭৮৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। তবে যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তারা সোমবার থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে আপিল করতে পারবেন। আগামী ৫ ডিসেম্বর (বুধবার) পর্যন্ত মনোনয়ন ফিরে পেতে ইসিতে আপিল করা যাবে। আপিল আবেদন পাওয়ার পর ৬-৮ ডিসেম্বর আপিল আবেদনের শুনানি শেষে সিদ্ধান্ত জানাবে ইসি।

আপিলের জন্য প্রার্থীদের অবশ্যই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে যেতে হবে। যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তারা সোমবার সকাল থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে আপিল করার কার্যক্রম শুরু করেছেন।