নৌমন্ত্রীর আয় মাসে ৫৭ হাজার থেকে বেড়ে ২৭ লাখ

0
80

২০০৮ সালের নভেম্বর মাস—তখনো দ্বিতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসেনি। অন্যান্য প্রার্থীর মতো মাদারীপুর-২ আসন থেকে ওই বছরের ২০ নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেন বর্তমান নৌপরিবহনমন্ত্রী ও পরিবহন খাতের নেতা শাজাহান খান। এরপর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগসহ তিনি। তারপর থেকে টানা ১০ বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন শাজাহান খান ও তার দল।

১০ বছর আগে যখন শাজাহান খান মনোনয়নপত্র জমা দেন তখন তার মাসিক আয় ছিল ৫৭ হাজার ৮৬ টাকা। তার স্ত্রীর শিক্ষকতা থেকে মাসে আসত পাঁচ হাজার দুইশ টাকা। তখন তাদের স্বামী-স্ত্রীর হাতে নগদ কোনো টাকা ছিল না। বরং ঋণ ছিল ৪৫ লাখ টাকার ওপরে।

দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা শাজাহান খান ও তার স্ত্রীর এখন হাতে নগদই আছে ৪৮ লাখ টাকার ওপরে। কোনো ধরনের ঋণও নেই। এখন শাজাহান খানের মাসিক আয়ও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ লাখ ৮০ হাজার ৩৮ টাকা।

২০০৮ সালে শাজাহান খানের নিজ নামে স্থাবর সম্পদ ছিল তিন স্থানে। এ ছাড়াও দেশের বাড়িতে যৌথ মালিকানায় স্থাবর সম্পদ ছিল এই সাংসদের। বর্তমানে নৌমন্ত্রীর নিজ নামে স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ১৫ স্থানে এবং যৌথ মালিকানায় রয়েছে ছয় স্থানে।

১০ বছর আগে নৌমন্ত্রীর স্ত্রীর নামে ছিল দুই স্থানে স্থাবর সম্পদ। বর্তমানে তার স্ত্রীর নামে স্থাবর সম্পদ রয়েছে ১৩ স্থানে।

নবম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের জমা দেওয়া দেওয়া হলফনামা থেকে এ চিত্র পাওয়া যায়। একাদশ জাতীয় নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়া এই সাংসদ মাদারীপুর-২ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

২০০৮ সালে শাজাহান খানের বার্ষিক আয় ছিল ছয় লাখ ৮৫ হাজার ৩৬ টাকা। এই হিসাবে প্রতি মাসে আসত ৫৭ হাজার ৮৬ টাকা। ১০ বছরের ব্যবধানে শাজাহান খানের বার্ষিক আয় তিন কোটি ৩৩ লাখ ৬০ হাজার ৪৫৯ টাকা। এই হিসাবে এখন প্রতি মাসে আসে তার ২৭ লাখ ৮০ হাজার ৩৮ টাকা।

নৌমন্ত্রীর ২০১৮ সালের বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া থেকে বছরে আসে দুই লাখ ৩৯ হাজার ৪৩৯ টাকা; ১০ বছর আগে আসত ১৫ হাজার ৩৬ টাকা। ব্যবসা থেকে আসত এক লাখ ৭০ হাজার টাকা; বর্তমানে আসে তিন কোটি তিন লাখ ৬২ হাজার ২৫০ টাকা।

বর্তমানে ব্যাংক আমানত থেকে লাভ আসে দুই লাখ ৯১ হাজার ২০০ টাকা; মন্ত্রী এবং সাংসদ হিসেবে পারিতোষিক ও ভাতা আসে ২৪ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮০ টাকা। আগে অন্যান্য খাত থেকে আসত পাঁচ লাখ টাকা।

২০০৮ সালে যা ছিল

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেওয়া শাজাহান খানের হলফনামা অনুযায়ী, তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল ৭১ লাখ ৩৩ হাজার ৩০১ টাকা।

শাজাহান খানের মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল ৬০ লাখ ১৮ হাজার ৩৪৮ টাকা। এর মধ্যে তার ব্যাংকে ছিল তিন লাখ ৩৪ হাজার ৬০৪ টাকা, ৫২ লাখ ৪৯ হাজার ৯৪৪ টাকা মূল্যের একটি জিপ, ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ১০ ভরি অলঙ্কার, এক লাখ ৪৩ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আগ্নেয়াস্ত্র দুই লাখ ১০ হাজার টাকার।

শাজাহান খানের স্ত্রীর ব্যাংকে ছিল ১২ হাজার ৪৭০ টাকা ৬৩ পয়সা, ৪০ লাখ টাকা মূল্যের দুটি বাস, একটি কার ও একটি মাইক্রোবাস, ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের ১৫ ভরি অলঙ্কার। তার ওপর নির্ভরশীলদের (স্ত্রী নয়) নামে ব্যাংকে এক হাজার ৩৮৬ টাকা, ১৬ লাখ টাকা মূল্যের একটি বাস।

২০০৮ সালে শাজাহান খানের সম্পদের পরিমাণ ছিল ১১ লাখ ১৪ হাজার ৯৫৩ টাকা। এর মধ্যে তার পৈতৃক সূত্রে পাওয়া পাঁচ কাঠা কৃষি জমি, শরীয়তপুরে .৬৪ শতাংশ (এক লাখ ৯৯ হাজার ৯৫৩ টাকা) ও মাদারীপুরে আট লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যের তিন তলা দালান। এ ছাড়াও দেশের বাড়ি ও যৌথ মালিকানায় এজমালি অকৃষি জমি পেয়েছিলেন।

২০০৮ সালে শাজাহান খানের স্ত্রীর স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল ঢাকার আনন্দনগরে ১.৫ কাঠা ও ঢাকার পূর্বাঞ্চলে ১০ কাঠা অকৃষি জমি।

এ সময় শাজাহান খানের ঋণ ছিল ৪৫ লাখ ২৯ হাজার ৯৫৩ টাকা।

২০১৮ সালে যা হয়েছে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী, শাজাহান খানের নিজ নামে মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ তিন কোটি চার লাখ ৭৬ হাজার ৭২৪ টাকা। এর মধ্যে নগদ রয়েছে অর্থের পরিমাণ ২৫ লাখ ৪২ হাজার ৪১৩ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা করা অর্থের পরিমাণ এক কোটি ২৩ লাখ ৫২ হাজার ৩১১ টাকা, দেড় কোটি টাকা দুটি জিপ ও একটি মাইক্রোবাস, স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ও পাথর নির্মিত অলঙ্কারের মূল্য ৮০ হাজার (২০ তোলা), এক লাখ টাকা মূল্যের টিভি, ফ্রিজ, ওভেন, ফ্যান,আয়রন ও ওয়াশিং মেশিন, এক লাখ টাকা মূল্যের খাট, সোফা, কাঠ, আলমারি, স্টিল আলমারি, ড্রেসিং, ডাইনিং ও তিন লাখ দুই হাজার টাকা মূল্যের একটি বন্দুক ও একটি পিস্তল।

শাজাহান খানের স্ত্রীর মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৪৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এর মধ্যে নগদ অর্থের পরিমাণ ২৩ লাখ ৪৮ হাজার ৫৬৪ টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা করা অর্থের পরিমাণ ২০ লাখ ৯১ হাজার ৪৩৬ টাকা।

শাজাহান খানের স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষি জমির পরিমাণ ১ একর ৫৫ শতাংশ (৩৩ লাখ টাকা), গৈদী মৌজায় ৪ শত