প্রেমে বাধা দেওয়ায় ট্রেনের নিচে প্রেমিক প্রেমিকার ঝাঁপ

0
60

 

পরিবার থেকে প্রেমে বাধা দেওয়ায় এক যুবক ও এক কিশোরী ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তারা একে অপরকে ভালোবাসত।

৪ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ওই যুবক প্রেমিকার সঙ্গে সেলফি তুলে রবিবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে ‘আজ আমরা স্বর্গে যাচ্ছি’ লিখে পোস্ট করেন। তারপর থেকেই তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। এরপর রাত ১০টার দিকে ঘোকসাডাঙা ও সাজেরহাট রেলস্টেশনের মাঝে তাদের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘোকসাডাঙা স্টেশনের রেল পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভজিৎ ঝা জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি মালগাড়ির সামনে ঝাঁপ দিয়ে তারা আত্মহত্যা করেছে।

ওই প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, ওই যুবকের বাড়ি মাথাভাঙার লতাপাতা এলাকায় আর কিশোরীর বাড়ি জলপাইগুড়ির পাঁচকাটা এলাকায়। ওই যুবক পড়াশোনার জন্য দাদুর বাড়ি জলপাইগুড়িতে থাকতেন। সেখানেই নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রণয়ের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু তাদের সে সম্পর্কে দুই পরিবার বাদ সাধে। একপর্যায়ে যোগাযোগ বিছিন্ন করতে চাপ দেওয়া হয় তাদের।

পরে ওই যুবক পারিবারিক অশান্তি এড়াতে দাদুর বাড়ি ছেড়ে নিজ বাড়িতে চলে আসেন। এরপর বেশ কয়েক দিন দুজনের আর সম্পর্ক ছিল না। হঠাৎ করে রবিবার দুপুরে ওই কিশোরী যুবকের বাড়ি চলে যায়। তারপরই ওই যুবকের বাড়ির লোকজন তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে কিশোরীকে বাড়িতে পৌঁছে দিতে যান ওই যুবক। তারপরেই তিনি ফেসবুকে নিজেদের ছবি দিয়ে পোস্টটি করেন।

ওই যুবকের মা বলেন, ‘ওই কিশোরী আমার খুড়তুতো বোন। তার সঙ্গে ছেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা দুজনে বিয়ে করতে চেয়েছিল। কিন্তু এই বিয়ে নিয়ে আমাদের দুই পরিবারের আপত্তি ছিল। আমরা দুজনকে বুঝিয়েছিলাম। কিন্তু তারা যে এভাবে চলে যাবে, আমরা বুঝতে পারিনি।

ময়নাতদন্তের জন্য ওই প্রেমিক-প্রেমিকার দেহ আলিপুরদুয়ার মর্গে পাঠানো হয়েছে।