সরকারের নির্দেশে বিএনপির মনোনয়ন গণহারে বাতিল: রিজভী

0
62

 

সরকারের নির্দেশে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র গণহারে বাতিল করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএন‌পির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাস‌চিব রুহুল ক‌বির রিজভী আহমেদ।

৪ ডি‌সেম্বর, মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টার দি‌কে নয়াপল্ট‌নে দ‌লের কেন্দ্রীয় কার্যাল‌য়ে আ‌য়ো‌জিত সংবাদ স‌ম্মেলনে তি‌নি এমন মন্তব্য করেন।

‌রিজভী ব‌লেন, ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসাররা মূলত সৎমায়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ডেকে এনে বৈঠক করে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেই নির্দেশনা অনুযায়ী বিএনপিসহ বিরোধী দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র গণহারে বাতিল করা হয়েছে।’

তুচ্ছ বিষয়ে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে উল্লেখ করে রুহুল কবির বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়নপত্রে অসংখ্য ত্রুটি থাকার পরেও সেগুলোকে বাতিল করা হয়নি। দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হওয়ার তথ্য গোপনের অভিযোগ থাকার পরেও সরকারি দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়নি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রিটার্নিং অফিসার হায়াত উদ দৌলা খানের কার্যালয়ে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রমে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া কোনো প্রার্থীকে কথা বলার সুযোগ দেননি তিনি। বিএনপির মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া বেশি রভাগ প্রার্থীকেই কথা বলতে দেননি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রিটার্নিং অফিসার।’

‘নির্বাচনি আচরণবিধির বিধান হচ্ছে—প্রার্থীদের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে তাদেরকে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। কোনো ডকুমেন্টস উপস্থাপন করতে চাইলে তা করতে দিতে হবে। কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তা যদি শুরুতেই প্রার্থীকে থামিয়ে দেন, তাহলে বুঝতে হবে রিটার্নিং অফিসার দুরভিসন্ধি নিয়ে কাজ করছেন। এভাবে সারা দেশেই রিটার্নিং অফিসাররা তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিএনপির মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন।’

‌বিএন‌পির এই নেতা ব‌লেন, ‘তফসিল ঘোষণার পরে রিটার্নিং অফিসাররা নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে কাজ করেন, সে ক্ষেত্রে তাদের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া চলবে না। কিন্তু যদি রিটার্নি অফিসার বা নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত অন্য কোনো কর্মকর্তা কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থের পক্ষে কাজ করেন, তাহলে তা হবে গুরুতর অসদাচরণ। এটি সমগ্র নির্বাচন কমিশনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে।’

‘বর্তমানে নির্বাচন কমিশন, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং নির্বাচনে ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের ভোটে নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়, জনমনে শঙ্কা ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি দেশব্যাপী রিটার্নিং অফিসারদের কর্মকাণ্ডে নির্বাচনে জনমতে সঠিক প্রতিফলন ঘটছে কি না তা নিয়ে মানুষের মধ্যে জিজ্ঞাসা তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত রিটার্নিং অফিসাররা যা করছেন তা কেবলই প্রহসন।’

নির্বাচন ক‌মিশ‌নের সমা‌লোচনায় সা‌বেক এই ছাত্র‌নেতা ব‌লেন, ‘আয় কমে গেলেও ক্ষমতাসীন মন্ত্রী-নেতাদের সম্পদ বাড়ে, অথচ এগুলিতে দুদক ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের চোখ এড়িয়ে যায়। আসন্ন নির্বাচন এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আবারও দেশব্যাপী গভীর অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের আগ্রাসী তৎপরতা ও নির্বিচারে দেশব্যাপী বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতার অভিযানে ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনেরই ছবি মানুষ দেখতে পাচ্ছে। যেন পাতানো কিছু একটা করতে যাচ্ছে অবৈধ শাসকগোষ্ঠী। স্বৈরশাসিত এই দেশে আগামী দিনে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অধঃপতনের লক্ষণগুলিই ফুটে উঠছে।’

হু‌ঁশিয়া‌রি উচ্চারণ ক‌রে রিজভী ব‌লেন, ‘এবারের নির্বাচন নিয়ে জনবিরোধী কোনো পদক্ষেপ নিতে গেলে এই অবৈধ আধিপত্য অভিলাষী সরকার নিজেরাই নিজেদের পতন ডেকে আনবে। ভোটারদের বঞ্চিত করে সিই‌সির ভাগ্নে শাহজাদাদের বিজয়ী করার নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না। তা ছাড়া বর্তমান শাসকগোষ্ঠী পুলিশের ওপর নির্ভরপরায়ণ ও সামর্থ্যহীন। সুতরাং গণভিত্তি নেই বলেই এদের পতন অত্যাসন্ন।’

হাইকোর্টে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও আমানউল্লাহ আমানসহ বিএনপির পাঁচ নেতার আবেদন নাকচ হওয়ার দিনে অ্যাটর্নি জেনারেল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘কারো দণ্ড হলে আপিল বিচারাধীন থাকলেই চলবে না, এমনকি আপিলে মুক্তি পেলেও নিস্তার নেই। কারণ সংবিধান অনুযায়ী দণ্ডিত ব্যক্তিকে মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে। এরপর তিনি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে যোগ্য হবেন।’