বাসায় একা ঘুমাতে ভয় পান এরশাদ

0
58

নয় বছর দাপটের সঙ্গে দেশ শাসন করলেও জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ বাসায় একা থাকতে ভয় পান। ঘুমের সমস্যা হলে তিনি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হন। এরশাদের শারীরিক অবস্থার কথা বলতে গিয়ে এই তথ্য জানান জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বনানীতে এরশাদের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান বলেন, ‘ঘুমের ডিস্টার্ব হলেও তিনি (এরশাদের) সিএমএইচে যান। বাসায় একা থাকেন বলে তাঁর একলা লাগে, ভয় করে। তা ছাড়া ইনফেকশনের (সংক্রমণ) ভয়ও আছে।’

গতকাল সকালে বারিধারার পার্ক রোডে এরশাদের বাসায় প্রাতরাশ সেরে আসার কথা জানিয়ে জাপার নতুন মহাসচিব বলেন, তাঁর (এরশাদ) বাসায় অবাঞ্ছিত কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি এখন হানড্রেড পারসেন্ট ফিট (শতভাগ সুস্থ) রয়েছেন। তবে তাঁর বাইরে যাওয়া জরুরি। সেটি হবে ১০ তারিখের পর।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন নিয়ে দর-কষাকষির মধ্যেই অসুস্থ হয়ে সিএমএইচে যান সাবেক স্বৈরশাসক এরশাদ। তাঁর অসুস্থতা নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে নানা কথা আছে। চার দিন আগে তিনি বাসায় ফিরেছেন। এখনো ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি ঝুলে আছে। এরই মধ্যে গত সোমবার দলের মহাসচিব পদে পরিবর্তন আনেন এরশাদ।

মহাজোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে গতকালের সংবাদ সম্মেলনে মসিউর রহমান বলেন, জাতীয় পার্টি ৫৪ থেকে ৫৫টি আসন প্রত্যাশা করছে। এই আসনগুলোতে শক্তিশালী প্রার্থী আছে।

সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ ডিসেম্বর। এর মধ্যে জাপার সঙ্গে আওয়ামী লীগের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করা হবে। তারপরই এরশাদ চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন জাপার মহাসচিব।

নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর সোমবার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে মসিউর রহমান বলেছিলেন, মনোনয়ন–বাণিজ্যের অভিযোগ তদন্ত করবেন তিনি। এ বিষয়ে গতকাল প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি এখনো কাজ শুরু করেনি।

জাপার সদ্য বিদায়ী মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে মনোনয়ন–বাণিজ্যের অভিযোগ তুলেছেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা। এ রকম একটি অবস্থায় এরশাদের নির্দেশে পদ ছাড়তে হয় তাঁকে। অবশ্য রুহুল আমিন হাওলাদার ‘শারীরিক অসুস্থতার’ কারণে মহাসচিবের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে দাবি করেন নতুন মহাসচিব। তিনি বলেন, পটুয়াখালী-১ আসন থেকে ঋণ খেলাপের কারণে মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় হাওলাদারের ‘মন খারাপ’। এটিও পদত্যাগের ‘কারণ হতে পারে’।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতি ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভরায়, এস এম ফয়সল চিশতী, শফিকুল ইসলাম, ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব এম এ মতিন প্রমুখ।