নাটোরের দুয়ারিয়া ও কদিমচিলান ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দালালদের উৎপাত । হয়রানির শিকার জনগণ

0
572

নাহিদ হোসেন,  নাটোর ॥  নাটোরের লালপুরেরদুয়ারিয়া ও কদিমচিলান ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এক শ্রেণীর দালালের দৌরাত্ম বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ এ সকল দালালরাসাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রয়োজনাতিরিক্ত টাকা নিয়ে ভূমিঅফিসের কর্মচারীর মতোই কাজ করে আসছেন। আর তাই এলাকারসাধারণ কৃষক ও জমির মালিকরা তাদেরকেই অফিসের কর্মচারীই মনেকরেন। অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীর চেয়ে সাধারণ মানুষতাদেরকেই বেশী চেনে। ফলে তারা কোন কাজে সরাসরি দালালদেরস্মরণাপন্ন হন। ভূমি অফিসের সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরাএখানে অনেকটা অসহায় বলে জানাগেছে। এলাকার খেটে খাওয়া অসহায় মানুষের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থহাতিয়ে নিয়ে ভূমি অফিসের দালালদের কেউ কেউ হয়েছেন আঙুলফুলে কলাগাছ। নামমাত্র পড়াশোনা জানা এ সকল দালাল অবৈধ টাকায়গড়েছেন উচ্চ বিলাশী বাড়ি গাড়ি ও যায়গা জমি। সম্প্রতিভুক্তভুগিদের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রাহক সেজে দুয়ারিয়া ওকদিমচিলান ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, ভূমিকর্মকর্তাদের মতোই চেয়ার টেবিল পেতে কাজ করছেন দালালরা।গুরুত্বপূর্ণ নথি, সরকারী আসবাবপত্র সবই তাদের হাতে। যেনতহশিলদারদের কোন কাজই নেই। সম্প্রতি এ প্রতিনিধি বেশ কয়েকদিন দুই ভূমি অফিসেসরেজমিনে গিয়ে একই দৃশ্য তার অবলোকন করেন। অফিসে গিয়েদেখা যায় লুঙ্গি পরা এক ভদ্রলোক (দালাল) অফিসের নথিপত্রঘাটাঘাটি করছেন। পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার নামআফসার আলী (৬২)। আমার বাড়ি টিটিয়া। আমি সাবেক ইউপিসদস্য। আমি এখানে বারো বছর যাবৎ কাজ করি। পারিশ্রমিক কতপান জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন আমি কোন পারিশ্রমিক পাইনা।স্ব ইচ্ছাতেই কাজ করি। তবে উপরি কামায় যা হয় তা দিয়ে কোনরকমচা নাস্তা করি।’ তবে কোন অধিকারে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রঘাটাঘাটি করছেন জিজ্ঞাসা করলে তিনি চেঁচিয়ে উঠে বলেন,আমি সাবেক ইউপি সদস্য। জনগনের সেবার জন্যই করি। আপনাদেরকৈফত দেব কেন ? সাংবাদিক পরিচয় দিতেই তিনি বলেন আমার ভূলহয়েছে। কিছু মনে কনবেন না। তহশিলদার শ্রী নিখিল চন্দ্র বলেন,তারা এখানে আমি আসার আগ থেকেই কাজ করেন। আগেরতহশিলদাররা যেহেতু তাদের নিয়ে কাজ করেছেন। আমার তো সেখানেবাধা নেই। তবে এখানে জনগনের কোন ভোগান্তি দেখতে পাবেন না। কদিমচিলান ভূমি অফিসে গিয়েও একই চিত্র চোখে পড়ে। সেখানেগিয়াস ও ইদ্রিস নামের দুইজন দালাল কাজ করেন। সেদিন গিয়াসউদ্দিন অফিস কক্ষে কাগজপত্র নিয়ে কাজ করছিলেন। সাংবাদিকরাআসছে জেনেই পিছন দরজা দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান। তার দুইদিনপরেই ভূমি অফিসে চোখে পড়ে ইদ্রিস দালালের । তিনিও সাবেকইউপি সদস্য। একটি ব্যাগে করে গ্রামে গ্রামে ঘুরে জমিয়েছেনএক গাদা জমির দলিল। সেগুলো নিয়ে এসে অফিসে কাজ করছেন। এ বিষয়ে তহশিলদার ময়েন উদ্দিন বলেন, তারা (দালাল) যুগের পর যুগএখানে কাজ করছেন। আমি হঠাৎ করে এসে তো তাদের তাড়িয়ে দিতেপারিনা। তাছাড়াও তারা সবাই এই এলাকার প্রভাবশালী। তাদের সাথেদ্বন্দ করলে আমার জীবনের নিরাপত্তা দিবে কে ? তবে আমার এখানেসরকারী নিয়মেই সকল কাজ হয়। কোন অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়না। ভূমির নাম জারি (নাম খারিজ) করতে আসা একাধিক ব্যক্তি জানান,জমির নাম খারিজের জন্য ২/৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়। প্রকৃত খরচকত তারা তা জানেন না। আর সে টাকা দালালদের হাতেই দেওয়া হয়।এ বিষয়ে কদিমচিলান ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম রেজা মাষ্টার বলেন,আমার ইউনিয়নের সাধারণ কৃষকরা জায়গা জমি নিয়ে ভোগান্তিপোহায়। দালালদের অত্যাচারে তারা আজ অতিষ্ঠ। এই ইউনিয়নের ভূমিঅফিসকে দালাল মুক্ত করতে আমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করি। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন, আমারকাছে কোন লিখিত অভিযোগ আসেনি।