এক জন বীর মুক্তিযোদ্ধা হয়ে কেন পতাকা বিক্রি করেন ???

0
200

বীর মুক্তিযোদ্ধা মনোতুষ মন্ডল, মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার বহেরাতলা গ্রামে যার বসবাস। এক ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে তার ছোট সংসার। পতাকা বিক্রি করে সংসার চালানো তার উদ্দেশ্য নয়। দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়েই তিনি দীর্ঘ্যদিন যাবৎ পতাকা বিক্রি করায় তার নেশা।

মহান স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসের মাস আসলেই নিজেকে স্থীর রাখতে পারেন না। এই দুই মাস ব্যাপী জাতীয় পতাকা নিয়ে সারাদেশ ব্যাপী ঘুরে বেড়ান এবং পতাকা বিক্রিতে যা লাভ হয়, তা একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের উন্নয়নে তথা বৃক্ষ রোপন, স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পতাকা বিতরণ, যুব সমাজকে দেশের ইতিহাস সম্পর্কে অবগত করতে আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডে ব্যয় করেন।

মনোতুষ বলেন, স্বাধীনতা ও বিজয়ের মাস আসলে সেই মুক্তিযোদ্ধের স্মৃতি সামনে এসে হাজির হয়। তাই পতাকা নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ফিরি। এই দুই মাসে সাংসারিক সব কাজ ফেলে জাতীয় পতাকা বিক্রি করে মনে শান্তি আনি।

তিনি জানান, মার্চ ও ডিসেম্বর মাসে প্রতিদিন গড়ে ৮০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার পতাকা বিক্রি করতে পারেন৷ ছোট বড় বিবেচনায় প্রতিটি পতাকার বিক্রয় মূল্য ৮০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা। তাছাড়া হাতবন্ধনী ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা, মোটর সাইকেলসহ ছোট পরিবহনের জন্য ব্যবহার উপযোগী পতাকা বিক্রি হয় ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা করে।তিনি আরও বলেন, আমি সরকারি ভাবে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী পাই ১০ হাজার টাকা। ওই টাকাতেই আমার ছোট্ট সংসারের খরচ চলে যায়।

চলতি বিজয় মাস উপলক্ষে সরকার ৭ হাজার টাকা ভাতা দিয়েছেন, ওই টাকার সাথে আরও ৫ হাজার টাকা মিলিয়ে ১২ হাজার টাকার পতাকা ও বন্ধনী কিনে শেরপুরে আসছি। খরচ বাদে এতে অন্তত ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা লাভ হবে।

এই লাভের টাকায় তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরনে কিছু একটা করবেন বলে তিনি জানান। তবে কি করবেন তা স্পষ্ট করেন নি। তবে বর্তমান প্রজন্ম দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ায় এখন আর বিজয়ের মাস, স্বাধীনতার মাস ছাড়াও ভাষার মাসেও পতাকা বিক্রি হয়। তার আশা দেশের প্রতিটি ঘরে অন্তত একটি করে পতাকা থাকুক। তাতে করে শিশুরা কৌতুলের বসে জিজ্ঞাসার মাধ্যমে পতাকার ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারবে। শিশু কাল হতেই যেন তারা দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠেন এটাই তার একান্ত চাওয়া।