২১ জুন বৃহস্পতিবার সারা ফ্রান্স জুড়ে উদযাপিত হল বিশ্ব সঙ্গীত দিবস

0
467

ফেত দু লা মিউজিক  বা  সঙ্গীত উৎসবের দিন । উত্তর গোলার্ধের গ্রীষ্মের প্রথম দিন ছিল ২১ জুন । এই গোলার্ধের আকাশে সূর্য বছরের যে কোনো দিনের চেয়ে বেশিক্ষণ অবারিত কিরণ বিলিয়েছে অর্থাৎ গ্রীষ্মের সবচেয়ে বৃহত্তম দিন ছিল এটা । এমন একটা সুন্দর দিনে ফ্রান্স জুড়ে আনন্দ সঙ্গীতে মুখরিত হল পুরো দেশ । গত ২১ জুন বৃহস্পতিবার সারা ফ্রান্স জুড়ে উদযাপিত হল বিশ্ব সঙ্গীত দিবস । এই দিনে  বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের ঢল নামে রাস্তায় । জড় হয় হাজার হাজার মানুষ । প্রতিটা জায়গায় জায়গায় আয়োজন করা হয় কনসার্ট কেও বা আবার নিজ দোকান বা বাসার সামনে আয়োজন করে সঙ্গীতের ।  আর এই আয়োজনকে উদ্দেশ্য করে নেওয়া হয় ফ্রান্স প্রশাসন থেকে কঠোর নিরাপত্তা ।

শুরুটা হয় মার্কিন সঙ্গীত শিল্পী জোয়েল কোহেনের হাত ধরে । ১৯৭৬ সালে জোয়েল কোহেন কর্মরত ছিলেন ফ্রান্সের একটি রেডিও স্টেশনে । তার কর্মস্থলে থাকা অবস্থায় ফ্রান্স প্রশাসনের কাছে বিশ্ব সঙ্গীত দিবস উদযাপনের প্রস্তাবটি পেশ  করে থাকেন । আর সেই বছর প্যারিস এবং তুলুজে সর্ব প্রথম উদযাপন করা হয়  ফেত দু লা মিউজিক  বা  সঙ্গীত উৎস । এই পর পেরিয়ে যায় বেশ কয়েক বছর ।

তার পর  ১৯৮২ সালে ফরাসি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের একটি সমীক্ষায় দেখা যায়, যে ফ্রান্সের  দুটি শিশুর মধ্যে একটি কোনো না কোনো বাদ্যযন্ত্রে পারদর্শী। চমকে যাওয়ার মতো এই তথ্যটি নতুন করে ভাবিয়ে তোলে তৎকালীন সংস্কৃতিমন্ত্রী জ্যাক ল্যাংকে। তিনি মানুষকে রাস্তায় কি ভাবে বের করা যায় তার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন ।

এরপর  জ্যাক ল্যাং ফরাসি নৃত্য ও সঙ্গীত পরিচালক মরিস ফ্লরেটকে সঙ্গে নিয়ে পুরো ফ্রান্স জুড়ে এবং বিশ্ব সঙ্গীত দিবস উদযাপনের উদ্যোগ নেন ।  উত্তর গোলার্ধের সবচেয়ে বড় দিন তথা ২১ জুনকে বিশ্ব সঙ্গীত দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। তৈরি হয় স্লোগান- The music every where and the concert now here । আর প্রথম এটি অনুষ্ঠানটি  হয় ১৯৮২ সালে প্যারিসে ।

আর এর পর থেকে  ২১ জুন  দিনটি হয়ে যায় বিশ্ব সঙ্গীত দিবস । বর্তমানে ফ্রান্স ছাড়াও ভারত, জার্মানি, ইতালি, গ্রীস, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, পেরু, ব্রাজিল, ইকুয়েডর, মেক্সিকো, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং জাপান সহ বিশ্বের ১২০ টি দেশ সঙ্গীত উৎসবটি পালন করে আসতেছে । আর সেই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর ২১ জুন এই দিনটিকে  বিশ্ব সঙ্গীত দিবস হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে ।