চট্টগ্রামের বারইয়ার হাটে সওজের জায়গা দখল করে গড়ে উঠছে অবৈধ স্থাপনা

0
334

ইকবাল হোসেন জীবন, মিরসরাইঃ  চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট পৌরসভায় সওজের(সড়ক ও জনপদ বিভাগ) জায়গা দখল করে বিভিন্ন স্থানে গড়েউঠেছে শত শত স্থাপনা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চারলেনপ্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার আগে সওজের জায়গা থেকে অবৈধস্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু ঢাকা-চট্টগ্রামমহাসড়কের চারলেন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর মহাসড়কের দুইপাশে সওজের জায়গায় ওই সব স্থাপনা তৈরিপ্রতিযোগীতায় নেমেছে কিছু অসাধু মানুষ। সওজেরজায়গা ছাড়াও উপজেলার আঞ্চলিক সড়কগুলো ঘিরে আছে অবৈধ স্থাপনায়। কোন কোন জায়গায় ছড়া দখল করে তৈরিহচ্ছে বিভিন্ন স্থাপনা। গত ১৯ জুন বারইয়ারহাট পৌরসভায় প্রায় ৫৫টি অবৈধস্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে আরোঅনেক স্থাপনা রয়ে গেছে। বিশেষ করে পৌরসভার ব্যবসায়ীকপ্রাণকেন্দ্র মসজিদ গলির শুরুতে দুই পাশে প্রায় ১০টি অবৈধ স্থাপনা রয়ে গেছে। বারইয়ারহাট-রামগড় সড়কের দুইপাশে প্রায় ৩০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হয়নি। পৌরসভার আল-আমিন মার্কেট সহ বিভিন্ন মার্কেটেরস্থায়ী ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে কতিপয় প্রভাবশালী অসাধু লোকজন অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে তাদের ব্যবসায় বিঘœ সৃষ্টিকরছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান,মাননীয় গৃহায়ন ও গনপূর্তমন্ত্রীর নির্দেশে সওজেরজায়গায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে বিভিন্ন মার্কেটের
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে গনস্বাক্ষর নেয়া হলেওরহস্যজনক কারণে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হচ্ছেনা। অবৈধস্থাপনা উচ্ছেদ করতে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহীকর্মকর্তা, বারইয়ারহাট পৌরসভার মেয়র ও জোরারগঞ্জ থানারঅফিসার ইনচার্জ বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেনব্যবসায়ীরা।সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কে চারলেন প্রকল্পের কাজ শেষহলে সড়কের দুই পাশে সওজের জায়গা সংলগ্ন জায়গারমালিকরা অবৈধ ভাবে স্থাপনা তৈরি শুরু করে। কাঁচা, আধাপাকা ঘর ছাড়াও কোথাও কোথাও পাকা ভবন তৈরি করেনিয়েছে ব্যবসায়ীরা। বারইয়ারহাট ছাড়াও মহাসড়কেরসোনাপাহাড় ফিলিং স্টেশন এলাকায় দেখা গেছে, সড়কেরপূর্ব পাশে একটি ছড়া দখল করে সওজের জায়গায় তৈরি করাহচ্ছে দোকান। নিজামপুর কলেজ এলাকায় রিদোয়ান ফিলিংষ্টেশনের পুর্বপাশে প্রায় ৮ টি স্থাপনা উচ্ছেদ করেন সওজকর্তৃপক্ষ। কিন্তু রহস্যজনক কারণে একটি হোটেলও উচ্ছেদ করাহয়নি। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় এক ছাত্রলীগ নেতার মাধ্যমেসওজ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এই হোটেল উচ্ছেদ হয়নি।বারইয়ারহাট পৌর বাজার উন্নয়ন কমিটির সাধারণসম্পাদক হেদায়েত উল্ল্যাহ্ জানান, সওজের জায়গায়নির্মিত ৫৫টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। অন্য অবৈধ স্থাপনা গুলো কেন উচ্ছেদ হচ্ছে না বুঝতে পারছিনা।সওজ কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি উচ্ছেদ নাহওয়া অবৈধ স্থাপনা যেন দ্রুত উচ্ছেদ করা হয়।মিরসরাই সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ কায়সারখসরু জানান, ইতমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে সরকারিজায়গায় দখলকৃত স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। গত ১৯ জুন
বারইয়ারহাট পৌরসভায় ৫৫টি স্থাপনা ভেঙ্গে দিয়েছি। অন্যঅবৈধ স্থাপনাগুলোও ধাপে ধাপে উচ্ছেদ করা হবে। অবৈধস্থাপনা করা ব্যক্তিদের স্থাপনা সরানোর জন্য নোটিশ দেয়াহয়েছে। সওজ’র চট্টগ্রাম সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীজুলফিকার আহম্মদ জানান, মহাসড়কের দুই পাশে বিভিন্নবাজারে সওজের জায়গায় নির্মিত সবগুলো অবৈধ স্থাপনারতালিকা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বারইয়ারহাট-করেরহাটবাজারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। অন্য অবৈধস্থাপনা গুলো খুব দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে।