বড়াইগ্রামে জোর করে বাল্য বিয়ে দিলেন আওয়ামীলীগ সভাপতি

0
127

নাহিদ হোসেন, নাটোর: ঈদের ছুটিতে কলেজ পড়ুয়া প্রেমিক বাড়িতে এসেও গ্রামের স্কুল পড়–য়া প্রেমিকার সাথে দেখা করেনি। প্রেমিকা ফোন করলে সেটাও সেরিসিভ করেনি। তাই নিরুপায় হয়ে খোঁজ নিতে প্রেমিকের বাড়িতেছুটে যায় প্রেমিকা। আর এতেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হলো ১৪ বছরবয়সী অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীকে। নাটোরের বড়াইগ্রামের নগর ইউনিয়নআওয়ামীলীগ সভাপতি ইয়াসিন আলী সরকার ওই ইউনিয়নের খিদরিআটাই গ্রামের আফসার সরদারের ছেলে কলেজ ছাত্র সোহেল সরদার (২০)কেএ ঘটনায় দায়ী করে প্রথমে বিশেষ সুবিধা আদায়ে চেষ্টা করে। এতেছেলেপক্ষ রাজী না হলে থানা পুলিশের সহায়তা নিয়ে জোর করে বাল্যবিয়ের কাজ সম্পন্ন করলেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি ইয়াসিনআলী। শনিবার রাত ১০ টার দিকে কালিবাড়ি এলাকায় কাজী মুক্তিহোসেন এই বিয়ে পড়ান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছেলে পক্ষের আত্মীয় স্বজনরা জানান, আগেরদিন শুক্রবার বিকেলে একই উপজেলার মাঝগাঁওয়ের নটাবাড়ী গ্রামের শহীদুল ইসলামের মেয়ে তিরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীসাথী আক্তার খিদরি আটাই গ্রামে তার প্রেমিক গোপালগঞ্জপলিটেকনিক কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সোহেলের খোঁজে আসে। এসময় উৎসুক গ্রামবাসী বিষয়টির জন্য সোহেলকে দায়ী করে স্থানীয়আওয়ামীলীগ নেতাদের শরণাপন্ন হয়। পরে সভাপতি ইয়াসিন আলীসরকার কিছু টাকা-পয়সা ঢালতে হবে এমন কথার প্রেক্ষিতে কিছুশর্ত প্রদান সাপেক্ষে বিষয়টি সুরাহা করার প্রস্তাব দেন। এতে মেয়েবা ছেলে পক্ষ রাজী না হলে তিনি বিয়ে পড়িয়ে দেয়ার জন্য নির্দেশ দিলেশুক্রবার রাতেই বিয়ে দেয়ার আয়োজন করা হয়। কিন্তু উপজেলা নির্বাহীঅফিসার আনোয়ার পারভেজ বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক থানাপুলিশের মাধ্যমে বিয়ে বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে শনিবার দুপুরেসভাপতি ইয়াসিন আলী সরকার সহ সঙ্গীয়রা থানা পুলিশের মাধ্যমেউভয় পক্ষকে থানায় ডেকে নেয়। কিন্তু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলিপকুমার দাস সাফ জানিয়ে দেন থানায় এ বিষয়ে কোন মিমাংসা হবেনা। যা করার বাইরে গিয়ে নিজেরা বসে সিদ্ধান্ত নিন। তবে তিনিমেয়েটির বয়স অল্প তাই বিয়ে না দেয়ার ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দেন। এরপররাত ৮টার দিকে আবারো দুপক্ষকে নিয়ে মিমাংসায় বসলে রাত ১০টাদিকে কাজী ডেকে সভাপতি ইয়াসিন আলী তাদের উভয়ের মধ্যে বিয়েপড়িয়ে দেন। বিয়েতে উপস্থিত কয়েকজন জানান, মেয়েটি বারবারবলছিলো কাবিন করে রাখা হউক, বিয়ে করে শ্বশুরবাড়ি এখন সে যাবে না।কিন্তু বিয়ের পরই ওই রাতেই মেয়েটাকে বউ সাজিয়ে নিয়ে যাওয়া হলোশ্বশুর বাড়িতে। এ ব্যাপারে জানার জন্য সভাপতি ইয়াসিন আলীর মুঠোফোনে কয়েকবারকল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।নগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নিলুফার ইয়াসমিন ডালু ঘটনারসত্যতা স্বীকার করে জানান, আমি এই বিয়েটা না দেয়ার জন্য বারবার স্থানীয় নেতাদের অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু কেন এবং কিভাবে এইবিয়ের কাজ সম্পন্ন করা হলো তার কারণও খুঁজতে তিনি নারাজ। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলিপ কুমার দাস জানান, থানায় আমারমাধ্যমে এ ব্যাপারে সুরাহার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু আমিসাফ বলে দিয়েছি বাল্যবিয়ে দেয়া যাবে না। অন্য কোন উপায়েসুরাহা করার কথা ভাবলে থানার বাইরে নিজ এলাকায় বসে তা করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার পারভেজ জানান, আমি শোনামাত্র তাৎক্ষণিক এ বিয়ে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছি এবং তা বন্ধহয়েছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে এ বিয়েটা সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে যারাজড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।