পঞ্চগড়ে বিজয় দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ত্রাণের কম্বলই হয়েছে জাতীয় উপহার!

0
20

 

বিজয় দিবস, যে দিনটির সাথে মিশে আছে জীবনকে তুচ্ছে করে যুদ্ধে যাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের অসামান্য অবদান। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে যাদের কাছে রাষ্ট্র চির ঋণী। তবে কোণ কোন স্থানে দায়িত্বশীলরা জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের অনেকক্ষেত্রে প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। প্রায়শই পত্রিকার পাতায় তা উঠে আসছে।

 

এমনই ঘটনা ঘটেছে পঞ্চগড়ের ৫টি উপজেলায়। বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ৫ টি উপজেলার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

 

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে ৫ টি উপজেলার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া হয়েছে ত্রাণের কম্বল। উপজেলা ভেদে ত্রাণের কম্বলের সাথে দেয়া হয়েছে গামলা, প্লেট, গ্লাস, কোট পিন।

 

জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের ত্রাণের কম্বল বিতরণে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে জেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে। প্রতিক্রিয়া জানতে কথা হয় জেলার সাধারণ মানুষের সাথে। সদরের জালাসি মোড় এলাকার রায়হান জানান, যাদের জন্য আজকের এই বিজয় দিবস প্রতি বছরই তাদের এভাবে ত্রাণের কম্বল দিয়ে শুধু অপমানই করা হচ্ছে না, আপমানিত হচ্ছে দেশ।

 

দেবীগঞ্জ উপজেলার আসাদুজ্জামান নাহিদ জানান, সংবর্ধনা শেষে হঠাৎ করে কেউ মুক্তিযোদ্ধাদের দেখলে বুঝতেই পারবেন না কারা তারা। প্রথম দেখাতেই মনে হবে একদল লোক সরকারি ভাবে রিলিফের পণ্য নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন। সত্যি এটা দুঃখজনক। বছরের একটা দিনও কি মুক্তিযোদ্ধাদের সৌজন্য উপহারটুকু উন্নতমানের ভিন্ন কিছু দেয়া সম্ভব নয় প্রশাসনের পক্ষে।

 

দেবীগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা রামপদ রায়ের পুত্র মৃত্যুঞ্জন রায় জানান, মুক্তিযোদ্ধারা কোন কিছুর বিনিময়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি।  তাদেরকে ত্রাণের কম্বল, গামলা, গ্লাস দেয়ার থেকে শুধু ফুল দিয়ে সংবর্ধনা করলেই তার সন্তুষ্ট থাকতেন এবং দৃষ্টিকটু হতো না। ব্যক্তিগত ভাবে একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে আমি মনে করি ত্রাণের কম্বল দিয়ে তাদের চরম অবমাননা করা হয়েছে।

 

কথা হয় দেবীগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা শষী নাথের সাথে। উপজেলা প্রশাসনের দেয়া সৌজন্য উপহার নিয়ে তার মত জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিরুপায় আমরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যা দেয়া হয়েছে তা নিয়েই আমাদের সন্তুষ্ট থাকতে হবে।

 

আটোয়ারী উপজেলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য এক মুক্তিযোদ্ধা জানান, প্রতিবার বিজয় দিবসে সংবর্ধনা নিতে এসে কম্বল নিয়ে বাড়িতে ফিরতে নিজের কাছেই লজ্জা লাগে। কিন্তু উপায় কি, যাদের ভাবার কথা তারাইতো ভাবছেন না। তাই কখনো কাউকে এই নিয়ে অভিযোগ করি নি।

 

দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী কর্মকর্তা প্রত্যয় হাসানের সাথে মুঠোফোনে এই বিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন, আপনারা কি নতুন নাকি? বরাবরের মতো এবারও কম্বল দেয়া হয়েছে। ত্রাণের কম্বল কিনা জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, ত্রাণের কম্বল হলেও সেগুলো উন্নতমানের।

 

এই বিষয়ে কথা হয় পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের  অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল মান্নানের সাথে। তিনি বলেন, কম্বল প্রদানের বিষয়টি কিছুটা হলেও দৃষ্টিকটু। তবে আপনি যেহেতু অভিযোগ করলেন পরের বছর থেকে সৌজন্য উপহার যেন আরো উন্নত হয় সেই বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করবো।