দেখা মিললো সেই মাকসুদ আলমের, পেলেন ১০০ কোটি টাকার চেক

0
37

 

অবশেষে দেখা মিলল মুন সিনেমা হলের মালিক মাকসুদুল আলমের। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রধান বিচাপতির এজলাসে দেখা গেল তাকে। মুন সিনেমার সম্পত্তির মূল্যবাবদ আদালত তার হাতে প্রায় শতকোটি টাকার চেক তুলে দিলেন।

 

একইসঙ্গে দ্রুত জমির রেজিস্ট্রেশন মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট্রের নামে সম্পন্ন করে দিতে বলেছে সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

 

প্রসঙ্গত, মুন সিনেমা হলের মালিকানা নিয়ে পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের রায় এসেছিল আট বছর আগে। সেই রায়ের আলোকে সংবিধানও সংশোধন করা হয়েছে। তবে সর্বোচ্চ আদালত থেকে চূড়ান্ত রায়ের পর আজ সেই সিনেমা হলের মালিক মূল্য বুঝে পেলেন।

 

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। মুন সিনেমা হলের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ মামুন।

 

আদেশের পর আজমালুল হোসেন কিউসি বলেন, এ লড়াইটা শুরু হয়েছে ১৯৭২ সালে। উনি (মুন সিনেমার মালিক) তিনটি রিট করেছেন। তৃতীয় রিট পিটিশনে ২০০৫ সালে শুনানি হয়েছিল হাইকোর্ট ডিভিশনে। তারপরে আপিল বিভাগে ২০১০-এ। পরে আদালত অবমাননার মামলা হয় ২০১৩ সালে। যেটার ফল আজ আমরা পেয়েছি। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, যে টাকাটা দেওয়ার কথা ছিল সেটা দিয়েছে। তারপরেও কাজ শেষ হয়নি।

 

‘মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট যেন এ জমিটার মালিক হয় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আদেশ দিয়েছেন। এটা আজ, কাল অথবা অন্য একদিন রেজিস্ট্রেশন করতে। এটা আমাদের করতে হবে। টাকাটা এখন খরচা করতে পারবেন। তবে জমি রেজিস্ট্রেশন করে দিতে হবে। জানুয়ারি মাসের ৫ তারিখ ফাইনাল অর্ডারের জন্য তারিখ রেখেছেন।

 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে মাকসুদুল আলম জানান, আমার তো ডিমান্ড ছিল অনেক। আমি পাইলাম অনেক কম। মাত্র ৯৯ পেলাম।

 

তার পরিবার ও ঢাকায় অবস্থানের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে মাকসুদুল আলম বলেন, আমার এক ছেলে দুই মেয়ে। তারা বিদেশে থাকে। আমি আর আমার ওয়াইফ দেশে থাকি। আমি গুলশানের বানানী থাকি।

 

জানা যায়, পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটে একসময়ে মুন সিনেমা হলের মালিক ছিল ইটালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি। মুক্তিযুদ্ধের সময় ওই সম্পত্তি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। পরে ওই সম্পত্তি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে তুলে দেওয়া হয়। ইটালিয়ান মার্বেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাকসুদুল আলম এই সম্পত্তির মালিকানা দাবি করেন।