রাজাকারের তালিকায় বঙ্গবন্ধুর স্বজনেরও নাম

0
40

 

দেশজুড়ে বিতর্ক তুঙ্গে রাজাকারের তালিকা নিয়ে। মুক্তিযোদ্ধা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর, শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীসহ বেশ কিছু নাম আসায় প্রকাশের দিন থেকেই বিতর্ক শুরু হয়েছে চার দিকে। ক্ষুব্ধ, সংক্ষুব্ধ তালিকায় নাম আসা মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন, সংগঠকসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন এই তালিকা নিয়ে। তীব্র সমালোচনা হচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনেও। বঙ্গবন্ধুর স্বজন ও পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট কালরাতে ঘাতকের হাতে নিহত শহীদ সেরনিয়াবাতের বাবা আব্দুল হাই সেরনিয়াবাতের নাম রয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সদ্য প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায়। স্বজনদের দাবি ১৯৭১ সালে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আব্দুল হাই সেরনিয়াবাত। ১৯৭১ সালে তখন তার বয়স ষাটের ওপরে। স্বপ্ন দেখতেন স্বাধীন দেশের।

 

দৃঢ় মনোবল আর প্রবল ইচ্ছাশক্তি দিয়ে বয়সের বাধা অতিক্রম করেছিলেন আব্দুল হাই সেরনিয়াবাত। এলাকার যুবক, তরুণসহ নানা বয়সী মানুষকে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাতেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, অস্ত্র দেওয়া, খাদ্য সরবরাহসহ বহু কাজে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেন আব্দুল হাই সেরনিয়াবাত।

 

এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে দাফতরিক বিভিন্ন কাজ সম্পাদনের দায়িত্ব ছিল তার ওপর। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখা এই মানুষটির নাম রাজাকারের তালিকায় প্রকাশিত হওয়ায় বিস্মিত তার সন্তান ও স্বজনরা। তারা এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও হতবাক। তার গ্রামের বাড়ি আগৈলঝাড়া উপজেলার সেরালে বইছে নিন্দার ঝড়।