মিরপুর প্রেসক্লাব সভাপতির বিরুদ্ধে বিচারপ্রার্থী নারীকে মারধরের অভিযোগ, সমালোচনার ঝড়

0
17

 

 

রাজধানীর মিরপুরের নবগঠিত মিরপুর প্রেসক্লাবের ‘বিতর্কিত’ সভাপতি মীর শফিকুল ইসলাম পলাশ কর্তৃক বিচারপ্রার্থী অসহায় এক নারীকে মারধর ও নির্যাতন চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

দীর্ঘদিন ধরে কথিত সাংবাদিক স্বামীর নির্যাতন ও অত্যাচারের শিকার ওই নারী বিচারপ্রার্থী হয়ে গত সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) প্রেসক্লাব কার্যালয়ে গেলে সহযোগিতা না করে উল্টো তাকে মারধর করেন সভাপতিসহ অন্যরা।

নির্যাতিতা ওই গৃহবধূ নিজেকে ‘দেশের কণ্ঠ টুয়েন্টিফোর ডটকম’ ও ‘দেশ নিউজ ডট টিভি’র চেয়ারম্যান কথিত নামধারী সাংবাদিক আক্তারুজ্জামান তারেকের স্ত্রী বলে পরিচয় দেন। এদিকে প্রেসক্লাব কার্যালয়ের ভেতরেই সভাপতি কর্তৃক বিচারপ্রার্থী নারীকে এমন নির্যাতনের খবরে মর্মাহত হয়েছেন অনেকেই, সেইসাথে চলছে সমালোচনার ঝড়।

নির্যাতনের শিকার চম্পা নামে ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, ২০১৭ সালে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার মিয়া মার্কেটে হাতুরে হোমিওপ্যাথিক ডাঃ হিসেবে একটি ডিসপেন্সারী পরিচালনা করতো মীর আক্তারুজ্জামান তারেক। অসুস্থ হয়ে সেবা নিতে গিয়ে আমার সাথে পরিচয়ের এক পর্যায়ে তার পোষ্য সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাকে অপহরণ করে বেকায়দায় ফেলে বিয়ে করেন তারেক।বিয়ের কিছুদিন ভালোই কাটছিলো। তবে বছর খানেক পার না হতেই তার নানা অপকর্ম আমার চোখে ধরা পড়তে শুরু করে। পরিচিত ও অপরিচিত বিভিন্ন নারী পুরুষকে নিয়মিত বাসায় নিয়ে এসে তাদেরকে অবাধ মেলামেশার সুযোগ করে দিতেন আমার স্বামী মীর আক্তারুজ্জামান তারেক।

একজন স্ত্রী হিসেবে আমি চোখের সামনে এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড সহ্য করতে না পারার এক পর্যায়ে প্রতিবাদ করলে শুরু হয় আমার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। তার অপকর্ম ও অনৈতিক কার্যকলাপের বিষয়ে এলাকায় জানাজানি হলে হঠাৎ করেই জামগড়ার হোমিওপ্যাথিক ফার্মেসী ছেড়ে দেন তারেক। গা-ঢাকা দিয়ে চলে আসেন মিরপুরে। আশ্রয় নেন সম্পর্কে চাচা মিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর পলাশের বাড়িতে। ফলে জামগড়ার বাসায় আমার কাছেও তার যাতায়াত অনিয়মিত হয়ে ওঠে। পরে একদিন হঠাৎ আমার স্বামীর মুখে জানতে পারি তিনি নাকি এখন সাংবাদিক হয়েছেন। মিরপুরে তার বিশাল অফিস ও লোকবল রয়েছে।

নির্যাতনের শিকার বিচারপ্রার্থী চম্পা বলেন, গত প্রায় দুই মাস যাবত আমার কোনো প্রকার খোঁজ খবর নেওয়াই বন্ধ করে দেন তারেক। আমি অসহায় হয়ে খেয়ে না খেয়ে দিনপাত করার সাথে সাথে নিয়মিতভাবে মুঠোফোনে তার খবরা খবর নেই এবং আমার অসহায়ত্বের বিষয়ে অবগত করি। তবে তিনি মুঠোফোনে সিলেটসহ একেক সময় একেক জেলায় আছেন বলে জানান। পরে আমি আমার পরিচিত এক ভাইয়ের মাধ্যমে জানতে পারি মিরপুরে মীর পলাশের বাড়ির নিচতলায় প্রেসক্লাবের ভেতরেই রাতে থাকার রুম রয়েছে তার এবং বর্তমানে সে সেখানেই থাকেন।