ধামরাইয়ে হারিয়ে যাচ্ছে মক্তবের কোরআন শিক্ষা

0
291
ছবিঃ মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ হাবিব

 

মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ হাবিব, স্টাফ রিপোর্টারঃ

সরিষা ফুলের বাহারি হাসিতে হলুদ বর্ণে বর্ণিল হয়ে ওঠেছে ঢাকা জেলার ধামরাইয়ের বিভিন্ন অঞ্চল। প্রকৃতির রঙে সাজানো সরিষা ক্ষেতের মাঝে বয়ে যাওয়া ক্ষুদ্র পথে শিশুরা মক্তবে কায়দা, আমপারা নিয়ে কোরআন পড়তে যাচ্ছে। মুগ্ধকর এ দৃশ্যটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় স্মৃতিবিজড়িত সে শৈশবের কথা।যদিও কালের আবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে কোরআন শিক্ষার প্রাথমিক স্তর মক্তব। পূর্বের মত এখন আর সচারচর চোখে পড়ে না এমন দৃশ্য।

বর্তমান আধুনিক শিক্ষাদান তথা ডিজিটাল যুগে কাকডাকা ভোর সকালে গ্রামাঞ্চলের কঁচিকাচা ছেলেমেয়েদের কোরআন শিক্ষা করতে মক্তবে যেতে দেখা যায় না তেমন। এখন আর কালিমায়ে তায়্যেবা, আলিফ, বা, তা এর ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেনা জনপদ। একসময় গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ছিল কোরআন শুদ্ধ করে পড়তে পারে এমন একটি মেয়েই হবে ঘরণী। যাতে বাড়ীঘরের অন্যজনেরাও কোরআনের শব্দে বরকতময় হয়ে উঠে। কিন্তু বর্তমান সময়ে সেই ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে একের পর এক।

সরেজমিনে ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকার মসজিদের মক্তবে গিয়ে দেখা দেখা যায়, কোরআন শিক্ষা করতে আসা ছেলেমেয়েদের উপস্থিতি সংখ্যা খুবই কম।

এ বিষয়ে বেলীশ্বর পূর্বপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা নুরুল ইসলাম বলেন, সময়ের অভাবে এলাকার শিশুরা এখন মক্তবে পবিত্র আল কোরআনের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কারণ ভোর সকালে ঘুম থেকে উঠে একগাদা বই নিয়ে কিন্ডারগার্টেন, কোচিং সেন্টারসহ বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনের ক্লাসে ঢুকে পড়ে। তাই এখন আর আগের মত মক্তবে কোরআন শিখতে ছেলে-মেয়েরা আসে না।

তিনি আরো বলেন, ছেলে-মেয়েদের কোরআন ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করা প্রতিটি মুসলিম অভিভাবকের ঈমানী দায়িত্ব। কোরআন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হলে অচিরেই এর কুফল ভোগ করতে হবে। শত কিছুর পরেও শিশুরা একটু করে হলেও কোরআন শিক্ষা করুক, এমনটাই প্রত্যাশা অনেকের।

এভাবে যদি আল কোরআন শিক্ষার প্রাথমিক ধাপ মক্তব হারিয়ে যায়, তাহলে এলাকার খোকামনিরা কোরআন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে। কোরআন শিক্ষার প্রাথমিক স্তর মক্তব চালুর মাধ্যমে এলাকার কোমলমতি শিশুদেরকে কোরআন শিক্ষার প্রতি উৎসাহিত করে তোলার দাবী সচেতন অভিভাবক মহলের।