জঙ্গি-সন্ত্রাসের মতন মাদকেও নির্মূল করা হবেঃ ওসি জামাল উদ্দিন মীর

0
97

মোঃ ইব্রাহিম হোসেন, ঢাকা প্রতিনিধিঃ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রথমেই যে নাম আসে, সেটা হলো পুলিশ। বলা হয়ে থাকে পুলিশ জনগণের সেবক। পুলিশ দেশমাতার নির্ভীক সৈনিক। পুলিশ সদাজাগ্রত বীর। পুলিশ জনগনের বন্ধু। বিপদে যার কাছে আশ্রয় নেয়া যায় তিনিই বন্ধু। শুধু তাই নয় পুলিশ সমাজের ভারসাম্য রক্ষা করে। অপরাধ নিমূলে সচেষ্ট থাকে, থাকে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্বে।

এগুরু দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে চাই দেশ প্রেম। দলমতের উর্দ্ধে থেকে নিজ দায়িত্ব পালন করতে পারলেই যেমন সফল হওয়া যায়। তেমনি দক্ষ, সৎ, সাহসী পুলিশ অফিসার দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করবে এটাই কাম্য। জনগনের নিরাপত্তা বিধান ও আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে যোগ্য, সৎ, সাহসী, পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তেমনই এক জন দেশমাতার নির্ভীক সৈনিকের সন্ধান মিলছে তিনি হলেন, রাজধানী ঢাকা মোহাম্মদপুর থানার জনপ্রিয় অফিসার ইনচার্জ জনাব জামাল উদ্দিন মীর। পুলিশ যে জনগণের বন্ধু প্রতিনিয়ত কাজে কর্মে তিনি প্রমান করে চলছেন।

জঙ্গি-সন্ত্রাসের মতন মাদকেও নির্মূল করা হবে এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ রোজ শুক্রবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের পাশে ‘আল্লাহ করিম’ জামে মসজিদ মুসল্লিদের সামনে বয়ানকালে মোহাম্মদপুর থানার জনপ্রিয় অফিসার ইনচার্জ জনাব জামাল উদ্দিন মীর এ বলেন। মাদক নির্মূলে ব্যাপারে পুলিশকে সহায়তা করার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহবান জানিয়ে মোহাম্মদপুর থানার জনপ্রিয় অফিসার ইনচার্জ জনাব জামাল উদ্দিন মীর বলেন, মাদককে রুখে দিতে হবে। নইলে এ সমাজকে চড়ামূল্য দিতে হবে। দিন দিন মাদেকর ভয়াবহতা বাড়ছে। পুলিশ মাদক নির্মূলে মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে। মিশন সফল হতে হবে।

মাদক যারা নেপথ্য নায়ক গডফাদার তাদের বিরুদ্ধে আমরা সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিচ্ছি। যারা পরিবহনকারী, বিক্রয়কারী, সেবনকারী, মজদুকারী কারো রেহাই নেই। মাদকের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তির পরিচয় কি সেটা আমরা দেখছি না। আমরা দেখছি তাকে শুধু মাদকে যুক্ত হিসেবে এবং সেভাবে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, জঙ্গি দমন, দেশের জনগনের জানমালের নিরাপত্তা বিধান, আইন-শৃক্সখলা স্বাভাবিক রাখা সব ক্ষেত্রেই পুলিশ সফলতার পরিচয় দিয়েছে। জঙ্গিবাদ যখন দেশের জন হুমকী হয়ে দাঁড়িয়েছিল-তখনই পুলিশ জীবনের ঝুকি নিয়ে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নেমেছ। আজ জঙ্গিবাদ নেই বললেই চলে। সেদিন বেশি দুরে নেই, যেদিন মাদকও থাকবেনা। সমাজের বিত্তবান সচেতন অংশ, সমাজসেবী, সেচ্ছাসেবী, মানবাধিকার সংগঠন, মিডিয়া সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা লাগবে। যার যার অবস্থান থেকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানান দিতে হবে। সৃষ্টি করতে হবে জনসচেতনতা।

জনাব জামাল উদ্দিন মীর আরো বলেন, যে পরিবারের একজন মাদকাসক্ত থাকে-সে পররিবারটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশ রয়েছে-মাদেকর ব্যাপারে কারো কোনো তদবির চলবেনা। যত বড় ক্ষমতাবান লোক মাদক ব্যবসায় যুক্ত থাকে, তার বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করার নির্দেশনা রয়েছে। যার ফলে মাদক অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। তিনি বলেন, সবার সহযোগিতা পেলে জঙ্গির মত মাদকেও সমাজ বিতাড়িত করতে সক্ষম হব।

জনাব জামাল উদ্দিন মীর বলেন, কোন ধর্মই মানুষ হত্যাকে সমর্থন করে না। যারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে তাদের কোন ধর্ম নাই। বাংলাদেশের জনগণ কোনও ধর্মাদ্ধ-উগ্রবাদি গোষ্ঠীর কাছে মাথা নত করেনি। সন্ত্রাসীদের কোন ভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। এদের বিরুদ্ধে প্রতিটি পাড়ায়-মহল্লায় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ইসলাম ধর্মের নাম করে যারা রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে, রাষ্ট্রের উন্নয়োনের কর্মকান্ডকে থামিয়ে দিতে চাইছেন, তাদের বলছি মানুষ মেরে কখনো বেহেশতে যাওয়া যায় না। বেহেশতে যেতে হলে ইসলামের সঠিক নিয়ম কানুন মেনে চলতে হবে।

জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাস ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধ বাড়ির মালিকদেরকে ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহের অনুরোধ জানিয়ে জনাব জামাল উদ্দিন মীর বলেন, অপরাধী বিভিন্ন এলাকায় ভূয়া পরিচয় দিয়ে অনেক সময় বাসা ভাড়া করেন। বেশ কিছু বাসায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরকও উদ্ধার করছে। ভাড়াটিয়াদের সঠিক তথ্য ও ছবি থাকলে তাদেরকে চিহ্নিত করা সহজ হবে। এ সব দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ করে থানাতে জমা দিবেন। এছাড়াও আপনাদের বাসা বাড়ীতে কাজের ছেলে-মেয়ে ও ড্রাইভার রাখেন, তাদের বিষয়ও সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে থানাতে জমা দিবেন। তারা যদি আপনাদের বাসা বাড়ীতে কোন রকম দুর্ঘটনা ঘটায় তাহলে আমাদের চিহ্নিত করতে সহজ হবে।

মোহাম্মদপুরে এমনও ঘটনা ঘটছে বাসা বাড়ীতে কাজের ছেলে-মেয়ে ও ড্রাইভার চুরি করে পালিয়ে গেছে কিন্তু থানাতে এসে তাদের কোন তথ্য দিতে পারে নাই। কোন বাড়িতে জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাস ও মাদকাসক্তি ধরা পড়লে সে বাড়ির মালিককেও ছাড় দেওয়া হবে না। জনাব জামাল উদ্দিন মীর, জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাস ও মাদকাসক্তির বিষয়ে অভিভাবকদের প্রতি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, আমার আপনার সন্তান কোথায় যায়, কি করছে, কাদের সঙ্গে মিশছে, সময় মতন স্কুল-কলেজ থেকে বাসা বাড়ীতে আসছে কিনা, ল্যাপটপ-মোবাইল ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোন খারাপ লোকজনের সাথে যোগাযোগ করছে কিনা, সে সব বিষয়ে অবশ্যই খোজ খবর রাখবেন।

সন্তানদের যদি কোন সমস্যা থেকে থাকে সেটা ভাল করে শোনা এবং তাদের সঙ্গে পারস্পরিক একটি আস্থার সম্পর্ক  তৈরী করা। আপনার আমার সন্তান মানুষের মতন মানুষ না হলে সম্পতি থেকেও কোন লাভ হবে না। তিনি বলেন গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তরাঁয় জঙ্গীরা হামলা করে কযেকজন বিদেশীকে হত্যা করেছিলো। তাছাড়াও উপমহাদেশের বৃহত্তম শোলাকিয়ার ঈদজামাতকে টার্গেট করে জঙ্গী হামলা করেছিলো। আমরা আগে মনে করতাম সবি হয়তো মাদ্রাসার গরীব ছাত্রদের টার্গেট করে ধর্মাদ্ধ-উগ্রবাদি গোষ্ঠীরা এ গুলি করছে। আসলে সেটা পুরাপুরি সটিক না।

এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি বিভিন্ন নামকরা কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও সাবেক শিক্ষকরা এর জড়িত। জনাব ওসি জামাল উদ্দিন মীর বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশমাতৃকার তরে প্রথম যে বাহিনী সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তা হচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী। এতে অনেকেই শহীদ হন। বর্তমানে জঙ্গী, সন্ত্রাসীদের দমন করতে যেয়ে অনেক পুলিশ অফিসার শহীদ হয়েছে। কাজেই জঙ্গী, সন্ত্রাসীদের এদেশে আশ্রয় দিতে পারি না। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী বর্তমানে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসীদেরকে দমন করতে সক্ষম হয়েছে। জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাস ও মাদকাসক্তি এই বাংলাদেশে জায়গা হতে পারে না।

তাই আসুন আমরা সকলে মিলে জঙ্গী-সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুল। মোহাম্মদপুরে জঙ্গি-সন্ত্রাস দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ এবং মাদকাসক্তির প্রতিরোধ করার জন্য ৩৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জনাব তারেকুজ্জামান রাজিব, মসজিদের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, খতীব এবং মুসল্লিগণ মোহাম্মদপুর থানার জনপ্রিয় অফিসার ইনচার্জ জনাব উদ্দিন মরীকে অভিনন্দন জানান।