আমি হিংসা চাই না, ঐক্য সৃষ্টি করে গণতন্ত্র উদ্ধার করতে হবে-মির্জা ফখরুল

0
75

স্টাফ রিপোর্টারঃ   শুক্রবার বিকেলে রাজশাহীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত হয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বেগম খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দীদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা না হলে নির্বাচনের তফসিল গ্রহণযোগ্য হবে না।

তিনি বলেন, আমরা সরকারকে খুব স্পষ্ট কথা বলেছি। ৭ দফা দাবি মেনে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংকট সমাধানের কথা বলেছি। কিন্তু তা হয়নি। তড়িঘড়ি করে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে বলেছিলেন, আমি হিংসা চাই না, ঐক্য সৃষ্টি করে গণতন্ত্র উদ্ধার করতে হবে। আমরা ঐক্য করেছি। শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংলাপে গিয়ে ৭ দফা দিয়েছিলাম। আমরা বলেছি সংসদ ভেঙে দিতে হবে, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে৷ তার মুক্তি ছাড়া নির্বাচন হতে পারে না। কিন্তু তারা মানেনি।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের রাজশাহীর জনসভায় আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়া, না নেয়ার বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি নেতারা। নতুন কোনো কর্মসূচিও দেয়া হয়নি জনসভা থেকে। বিকেলে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভায় বক্তব্য রাখেন তারা।

ফখরুল আফসোস করে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। চিকিৎসকরা বলেছেন, তিনি সুস্থ নন। তারপরও তাকে আবারও কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ছোট্ট একটি কক্ষে তার জন্য কারাগারের ভেতরে আদালত বসানো হয়েছে। এমন ঘটনা ব্রিটিশদের সময় হয়নি, পাকিস্তানের সময় হয়নি। খালেদা জিয়াকে কারাগারের অন্ধকারে তিলে তিলে হত্যা করা হচ্ছে। এই কষ্ট আমরা কোথায় রাখবো?

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভায় যোগ দিতে সকাল থেকেই রাজধানীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আসতে থাকেন জোটের শরিক দলগুলোর কর্মী-সমর্থকরা। দুপুরের মধ্যেই সভাস্থল অনেকাংশেই পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে যোগ দিতে পারেন নি তিনি।

তফসিল ঘোষণার বিরোধীতা করে বক্তরা বলেন, ঐক্যফ্রন্টকে নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে বিরত রাখতেই তড়িঘড়ি করে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭দফা দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান নেতারা।

সব দলের সমান সুযোগ সৃষ্টি ছাড়া সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমেই সরকারকে ঐক্যফ্রন্টের সব দাবি আদায়ে বাধ্য করা হবে। অসুস্থতার কারণে জনসভায় উপস্থিত ছিলেন না ড. কামাল হোসেন।

অনুষ্ঠানে জেএসডি’র সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বক্তব্য রাখেন।